দেনার দায়ে ধুঁকছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। এহেন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও কাতারের থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিল ইসলামাবাদ। নিঃসন্দেহে এই ঋণে সাময়িক ভাবে হলেও কঠিন পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি পাবে প্রতিবেশী দেশটি।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর থেকে নেওয়া বিপুল ঋণ শোধ করার কথা পাকিস্তানের। এমাসেই ৩.৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা। এমতাবস্থায় চাপ বাড়ছে তাদের উপরে। এই পরিস্থিতিতে ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ায় সেই দিকটা কিছুটা হয়তো সামাল দেওয়া যাবে। কিন্তু তাতে সার্বিক পরিস্থিতির যে খুব একটা বদল হবে না তাতে নিশ্চিত ওয়াকিবহাল মহল।
নানা দেশ ও সংস্থা থেকে বিপুল পরিমাণে ঋণ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে পাক অর্থনীতি। মূল্যবৃদ্ধির সমস্যায় জেরবার আমজনতার বোঝা আরও বাড়িয়ে নয়া কর চাপাচ্ছে শাহবাজ শরিফের সরকার। অবস্থা যে তথৈবচ তা বোঝা গিয়েছিল বছরের শুরুতে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মন্তব্যে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এখন বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে ঋণও বেড়েছে। আপনারা তো জানেনই, ঋণ নিলে মাথা হেঁট হয়ই। আমার আর আসিম মুনিরেরও হয়েছে। ঋণ নেওয়া আমাদের আত্মসম্মানে আঘাত। এর জন্য আমরা অনেক কিছুতেই না বলতে পারি না।”
প্রসঙ্গত, বছর দুয়েক আগে আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের কাছ থেকে ৭০০ কোটি ডলারের ঋণের প্যাকেজ পেয়েছিল পাকিস্তান। অতিমারির পরে ডলারের তুলনায় পাকিস্তানি মুদ্রার দাম পড়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি, ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানির অভাবে ভুগছিল পাকিস্তান। সেই সময় আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডারের ঋণ পেয়ে কিছুটা চাঙ্গা হয় পাকিস্তানের অর্থনীতি। পরিবর্তে বেশ কিছু শর্তও মানতে বাধ্য ছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেই শর্ত পাকিস্তান মানেনি বলে আগেই অভিযোগ তুলেছিল ভারত। এ সবের মধ্যেই গত বছর মে মাসে পাকিস্তানের জন্য ১০০ কোটি ডলার ঋণ মঞ্জুর করে আইএমএফ। তখনও আপত্তি জানায় ভারত।
