গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। ট্রাম্পকে রিতিমত কটাক্ষ করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছে ফরাসি বিদেশ মন্ত্রক। তাঁদের সাফ দাবি, গ্রিনল্যান্ড দখল করার চেষ্টা আমেরিকার সঙ্গে ইউরোপিয় ইউনিয়নের সম্পর্ক নষ্ট করবে।
ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর আমেরিকাকে সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের দখল নেওয়ার যেকোনও পদক্ষেপ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে সমস্যার মুখে ফেলবে। তিনি আরও বলেন, "গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম দেশের একটি সার্বভৌম অংশ যা ইইউ-র অংশ। এটি নিয়ে ঝামেলা করা উচিত নয়।"
যদিও, লেসকিউর এও জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলেলও, বিরল খনিজের মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে চিন নির্ভরতা কমাতে, ইউরোপের সঙ্গে মিলেই আমেরিকাকে কাজ করতে হবে।
গ্রিনল্যান্ড দখলে নাছোড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটিকে সমর্থনের জন্য ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের উপর তিনি নিক্ষেপ করেছেন শুল্কবাণ। কিন্তু তাতেও বিশেষ কাজ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে 'রুশ জুজু' দেখিয়ে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নয়া দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, 'গ্রিনল্যান্ডে রুশ আগ্রাসনের যে ঝুঁকি রয়েছে, তা নিয়ে ডেনমার্ককে বিগত ২০ বছর ধরে সতর্ক করে আসছে ন্যাটো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই সতর্কবাণী কানে তোলেনি ডেনমার্ক। এবার সময় এসেছে এবং তা সম্পন্ন হয়েই থাকবে।' 'রুশ জুজু'র বিরুদ্ধে সরাসরি আমেরিকাকে কটাক্ষ করে ফ্রান্স সমাজ মাধ্যমে লিখেছে, 'যদি কোনওদিন আগুন লাগতো, তাহলে দমকলকর্মীরা হস্তক্ষেপ করতো, তাই এখনই ঘর পুড়িয়ে ফেলাই ভালো। যদি কোনদিন হাঙর আক্রমণ করে, তাই এখনই লাইফগার্ড নষ্ট করে ফেলা ভালো। যদি কোনদিন দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে ক্ষতি হবে, তাই এখনই গাড়ি ভেঙে ফেলা ভালো।"
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিরুদ্ধাচারণ করায় কয়েকদিন আগেই ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এই শুল্ক নিয়ম কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। কিন্তু তাতে মচকায়নি ইউরোপের দেশগুলি। রবিবার এক বার্তায় তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের মানুষের পাশে রয়েছে তারা।
