শান্তির নোবেল পুরস্কার না পেয়ে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ইস্যুতে সম্প্রতি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গর স্টোরকে চিঠিও লিখেছেন তিনি। এরই পালটা ক্ষুব্ধ ট্রাম্পকে শান্ত করতে বার্তা দিলেন স্টোর। জানালেন, ওনাকে বারবার একই কথা বললেও বোঝেন না। নোবেলের বিষয়টি সত্যিই আমার হাতে নেই।
স্পষ্ট ভাষায় স্টোরি জানান, নোবেল পুরস্কার কে পাবেন, কে পাবেন না সে বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নোবেল কমিটি। নরওয়ে সরকারের এই বিষয়ে কোনও হাত নেই। নোবেল কমিটি একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন সংস্থা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "আমি গতকাল বিকেলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে ওই বার্তা পাই। এর আগেও আমি বহুবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিষয়টি স্পষ্ট করে ব্যাখ্য করেছি। কিন্তু উনি বুঝতে চাইছেন না। সবাই জানে নোবেল পুরস্কার স্বাধীন নোবেল কমিটির দ্বারা প্রদান করা হয় এই বিষয়ে নরওয়ে সরকারের কোনও হাত নেই।"
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর রিপোর্ট থেকে জানা যায়, নোবেল না পাওয়ার জন্য ক্ষোভ উগরে সম্প্রতি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোরকে চিঠি লিখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, নোবেল কমিটিতে নরওয়ে সরকারের ভূমিকার বিষয়টিও মার্কিন বিদেশনীতিতে যুক্ত করার বার্তা দেন। চিঠিতে লেখেন, ‘৮টির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও আপনার দেশ আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এখন থেকে শান্তির বিষয়ে চিন্তা করার কোনও প্রয়োজন অনুভব করি না আমি। অবশ্য শান্তি শান্তির মতোই থাকবে, কিন্তু এখন থেকে আমি শুধু আমেরিকার জন্য কোনটা ভালো ও সঠিক সেদিকেই মনোনিবেশ করব।’
শুধু তাই নয়, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিরুদ্ধাচারণ করায় কয়েকদিন আগেই ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এর নেপথ্যেও এই নোবেল ইস্যু রয়েছে বলে মনে করেন স্টোর। বলেন এই শুল্ক আরোপের পরই ট্রাম্পের থেকে ওই বার্তা পাই আমি। তবে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আমাদের অবস্থান একদম স্পষ্ট। তাঁর কথায়, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ, এবং নরওয়ে এই বিষয়ে ডেনমার্ককে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করে। আমরা আরও বিশ্বাস করি ন্যাটোকে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে।"
