সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বারবার বলা সত্ত্বেও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি। এই অপরাধে নৃশংসভাবে গুলি করে খুন করা হল হিন্দু যুবককে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানের পেশোয়ারে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ফের প্রশ্নের মুখে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা।

পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনা ঘটেছে পেশোয়ারের আমিন কলোনি এলাকায়। অভিযোগ গত ২৯ মার্চ নাদিম নাথ নামে ওই যুবককে গুলি করে হত্যা করে মুস্তাক নামে এক ব্যক্তি। মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ, গত কয়েকমাস ধরে নাদিমকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ দিচ্ছিল মুস্তাক। তবে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি। যার জেরেই নাদিমকে খুনের ছক কষে অভিযুক্ত। শনিবার নাদিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুস্তাক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুব কাছ থেকে গুলি করে অভিযুক্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় নাদিমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, সেখানেই চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তাঁর। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নাদিমের ভাই সাগর নাথ। যদিও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশের তরফে এখনও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে পাকিস্তানকে। অথচ দেশভাগের পর থেকে পাকিস্তানে লাগাতার চলছে সংখ্যালঘু নির্যাতন। তথ্য বলছে, দেশভাগের পর পাকিস্তানে হিন্দুর সংখ্যা ছিল ২০.৫ শতাংশ। সেই সংখ্যাটা কমতে কমতে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.১৭ শতাংশ। অভিযোগ, জোর করে পাকিস্তানে হিন্দু মহিলাদের বিয়ে, ধর্ষণ সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যালঘুদের বাধ্য করা হচ্ছে ধর্ম পরিবর্তনে। রাজি না হলে চলছে অত্যাচার, খুনের মতো ঘটনা। পাক প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হয় না সংখ্যালঘুদের।