নেদারল্যান্ডস (Netherlands) সফরে গিয়ে ১৭টি চুক্তি সই করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেই সফরের পরই প্রশ্ন উঠল ভারতে (India) সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে। সেই প্রশ্ন তুলেছেন ডাচ প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। গোটা বিষয়টি নিয়ে অবশ্য ভারতের তরফেও পালটা দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, উপযুক্ত জ্ঞানের অভাবে এই ধরণের প্রশ্ন ওঠে।
মোদি নেদারল্যান্ডসে পা রাখার আগেই সেদেশের প্রধানমন্ত্রী জেটেন বলেছিলেন, কেবল ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নয়, ভারতীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও ডাচ সরকার যথেষ্ট চিন্তিত। এই বিষয়গুলি নিয়ে নয়াদিল্লিকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন জেটেন। তাঁর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন ছুড়ে দেন এক ডাচ সাংবাদিক। বিদেশমন্ত্রকের বিশেষ সচিব সিবি জর্জকে তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা রয়েছে। সেকারণেই কি মোদি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেননি?
নেদারল্যান্ডস সফরের পর জেটেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি। আগামী দিনে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেই আশাবাদী তিনি। মোট ১৭টি চুক্তি হয়েছে এই সফরে।
এই প্রশ্নের জবাবে জর্জ সাফ জানিয়ে দেন, "আসলে এই প্রশ্নগুলো আমাদের শুনতে হয় কারণ প্রশ্নকর্তার জ্ঞানের অভাব রয়েছে। ৫ হাজার বছর ধরে ভারতীয় সভ্যতা টিকে রয়েছে, বৈচিত্র্য নিয়েই। আড়াই হাজার বছর ধরে ভারতে যিহুদীরা রয়েছেন। খ্রিস্টান এবং মুসলিমরাও ভারতে বসবাস করেন। স্বাধীনতার সময়ে আমাদের সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল ১১ শতাংশ। সেটা এখন বেড়ে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ভারত ছাড়া অন্য কোনও দেশে সংখ্যালঘুদের এমন বৃদ্ধি দেখতে পাবেন না। সেটাই ভারতের সৌন্দর্য। আমি অনুরোধ করব আপনি ভারত নিয়ে আরও পড়াশোনা করুন।"
প্রসঙ্গত, নেদারল্যান্ডস সফরের পর জেটেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি। আগামী দিনে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেই আশাবাদী তিনি। মোট ১৭টি চুক্তি হয়েছে এই সফরে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, মেরিটাইম সিকিয়োরিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিনিয়োগ, নিয়োগ, সাপ্লাই সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের আদানপ্রদান আরও বাড়বে। ১ হাজার বছরের পুরনো চোল আমলের মোট ২৪টি তাম্রলিপি ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে নেদারল্যান্ডস।
