ইরানগামী জাহাজ এবং ইরানি বন্দর থেকে বেরনো জাহাজ আটকানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা। সোমবার সন্ধে থেকে কার্যকর হবে এই অবরোধ। এবার তার পালটা দিল ইরানও। সেদেশের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এক্স হ্যান্ডেলে আমেরিকাকে খোঁচা দিয়ে একটি পোস্ট করেছেন। পেট্রলের চড়া দামের বিষয়টি উল্লেখ করে ঘালিবাফের কটাক্ষ, আমেরিকাবাসী ক'টা দিন সস্তায় পেট্রল কিনে নিন। কারণ অবরোধ শুরু হলে সস্তায় তেল পাবেন না।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আমেরিকা-ইরানের শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এরপর রণক্ষেত্রে যুদ্ধের পাশাপাশি একে অপরের অর্থনীতিতে আঘাত হানতে চলেছে দুই দেশ। প্রায় দু'মাস ধরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছিল ইরান। তার জেরে গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে টান পড়েছে। যুদ্ধবিরতির সময়ে শর্তসাপেক্ষে হরমুজ খুলে দেওয়া হয়েছিল। শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান হরমুজে জাহাজ ঢোকা-বেরনো তাঁরাই নিয়ন্ত্রণ করবেন। ইরানের বন্দর ব্যবহারকারী জাহাজগুলিকে আটকে দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের জেরে আমেরিকাবাসীই বিপাকে পড়বে, সোশাল মিডিয়ায় এই বার্তা দিলেন ইরানের স্পিকার। একটি ছবি শেয়ার করেছেন ঘালিবাফ, যেখানে দেখা যাচ্ছে মার্কিন মুলুকে বর্তমানে পেট্রলের দাম কত। লিটারপ্রতি ৪-৫ ডলার দামে আপাতত পেট্রল কিনছেন মার্কিন আমজনতা। কিন্তু ঘালিবাফের ইঙ্গিত, কয়েকদিনের মধ্যে এই দামে পেট্রল কেনাটা আমেরিকাবাসীর অতীতের স্মৃতি হয়ে যাবে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমীকরণ তুলে ধরে ঘালিবাফের স্পষ্ট কথা, হরমুজে যত চাপ বাড়বে, তেলের দাম তত বাড়বে। আর সেই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে হবে মার্কিন আমজনতাকে।
উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে অর্থের শ্রাদ্ধ ছাড়া বিশেষ লাভ হয়নি আমেরিকার। এই অবস্থায় শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ২১ ঘণ্টা ধরে চলা সে বৈঠকও ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় ইরানের ঘাড়ে চাপিয়েছে আমেরিকা। অন্যদিকে, ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে প্রশাসন সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, বিশ্বের সামনে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে এই আলোচনায় বসেছিল আমেরিকা। এই বৈঠক ছিল শুধুই দেখনদারি।
