ইরানকে নিয়ে কার্যত ছিনিমিনি খেলছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। মারণ হামলা চালিয়ে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইকে হত্যা করা হয়েছে আগেই। এবার দেশটির সরকারি সম্প্রচার সংস্থা IRIB-র সদর দপ্তরে হামলা চালানোর পাশাপাশি টিভি চ্যানেল হ্যাক করে সেখানে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ সম্প্রচার করল গুপ্তচর সংস্থা 'মোসাদ'। ভাষণ শোনা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও।
সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত রবিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল শুধু তেহরানের সংবাদমাধ্যমের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়নি, সেই সঙ্গে সরকারি টিভি চ্যানেলগুলি হ্যাক করা হয়। এরপর সেখানে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তৃতা প্রচার করা হয়। গোটা ইরানজুড়ে সেই ভাষণ সম্প্রচার হচ্ছিল। ইজরায়েলের তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস তেহরানে সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম IRIB-কে ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছিল। হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করা হয়েছে। গত কয়েক বছর এই সংবাদমাধ্যম কর্তৃপক্ষ ইজরায়েলকে ধ্বংস করতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের উসকানি দিচ্ছিল।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর শনিবার দুপুরেই পেয়ে গিয়েছিল IRIB-তে। পরদিন অর্থাৎ রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর ঘোষণা করার কথা ছিল। তাঁর আগেই হামলা চালানো হয় ওই সম্প্রচার সংস্থার সদর দপ্তরে।
পাশাপাশি ইজরায়েল আরও জানিয়েছে, IRIB-তে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলিকে হ্যাক করে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের ভাষণ। সূত্রের খবর, খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর শনিবার দুপুরেই পেয়ে গিয়েছিল IRIB-তে। পরদিন অর্থাৎ রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর ঘোষণা করার কথা ছিল। তাঁর আগেই হামলা চালানো হয় ওই সম্প্রচার সংস্থার সদর দপ্তরে।
উল্লেখ্য, শনিবার ইরানে হামলা হওয়ার পরই ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে বেপরোয়া হামলা শুরু করে তেহরান। দুপুরের পর দুবাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের (Dubai Blast) শব্দ পাওয়া যায়। পাম জুমেইরাহ এলাকায় বিস্ফোরণের কথা নিশ্চিত করেছে সে দেশের প্রশাসন। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ইমারত বুর্জ খলিফার কাছেও একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা যায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শনিবারই খালি করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফা। রবি ও সোমবারও হামলা থামেনি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, আবুধাবিতে একটি নৌসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলা চলেছে রিয়াধে আমেরিকার দূতাবাসেও।
