সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মহিলাদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার নেই! শৌচাগারে যাওয়ার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে খোদ প্রধানমন্ত্রীকেও! জাপানের পার্লামেন্টের এহেন বেহাল অবস্থায় প্রতিবাদে ফুঁসে উঠলেন সেখানকার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তাঁর সঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হলেন অন্তত ৬০ জন মহিলা সাংসদ। এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
২০২৫ সালের জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সানায়ে তাকাইচি। তাঁর পাশাপাশি এবার জাপান পার্লামেন্টে মহিলা সদস্যদের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্লামেন্টে মহিলা সদস্য বৃদ্ধি পাওয়ায় পর সংসদ ঠিকঠাক ভাবে চললেও সমস্যা বেঁধে অন্য জায়গায়। জাপানের রাজনীতি মূলত পুরুষ শাসিত। সেখানে পার্লামেন্টে মহিলা সদস্য বৃদ্ধি চাপ বাড়িয়েছে সেখানকার শৌচাগারের উপর। পর্যাপ্ত শৌচাগার না থাকায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে খোদ প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকেও। দিনের পর দিন এই ঘটনায় যারপরনাই বিরক্ত তিনি। এই অবস্থায় পার্লামেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বড়সড় আন্দোলনে নামলেন সেখানকার মহিলা সাংসদরা। শৌচাগারের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে সেখানে সাক্ষর করেছেন প্রধানমন্ত্রী-সহ ৬০ জন সাংসদ।
উল্লেখ্য, জাপানে লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এখনও মহিলারা এখানে প্রার্থী হলে লিঙ্গ বৈষম্যমূলক মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়। এখানে মহিলারা প্রথম ভোটাধিকার পেয়েছিলেন ১৯৪৫ সালে। এদিকে জাপানের পার্লামেন্ট ভবন নির্মিত হয়েছিল ১৯৩৬ সালে। ফলে সেখানে মহিলাদের জন্য আলাদা কোনও শৌচাগার ছিল না। নিম্নকক্ষে ৭৩ জন মহিলা সাংসদের জন্য দুটি মাত্র কিউবিকেল ও একটি শৌচাগার রয়েছে। এই অবস্থায় শৌচাগারে যাওয়ার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় খোদ প্রধানমন্ত্রীকেও।
গুরুতর এই পরিস্থিতিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, পার্লামেন্টে মহিলাদের জন্য টয়লেটের ক্রমবর্ধমান চাহিদা নারী অগ্রগতিরই একটি লক্ষণ। তবে এটি জাপানের লিঙ্গ সমতার অভাবকেও তুলে ধরে। এই বছর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের 'গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ' রিপোর্ট অনুযায়ী, জাপান ১৪৮টি দেশের মধ্যে ১১৮তম স্থানে রয়েছে।
