শুক্রবারই ওমানে পরমাণু প্রকল্প সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠকে বসার কথা আমেরিকা এবং ইরানের প্রতিনিধিদের। ঠিক তার আগেই মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার বার্তা দিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যার জেরে আবার যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা গিয়েছে ইরান-সহ গোটা পশ্চিম এশিয়াতেই।
ইরানে মার্কিন দূতাবাস নেই। তবে আমেরিকার ভার্চুয়াল দূতাবাসের ওয়েবসাইটে মার্কিন নাগরিকদের এখনই ইরান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, আমেরিকার সাহায্য ছাড়াই তাঁদের ইরান ছাড়তে হবে। প্রয়োজনে তাঁরা আর্মেনিয়া বা তুরস্কের সীমান্ত ব্যবহার করতে পারেন। যাঁদের পক্ষে এখনই দেশ ছাড়া সম্ভব নয়, তাঁদের শীঘ্রই কোনও নিরাপদে জায়গায় চলে যেতে বলা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের মার্কিন নাগরিকেরা যাতে কোনও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ না দেন, সেই বার্তাও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যাঁদের ইরান এবং আমেরিকার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, তাঁদের দেশ ছাড়ার সময় ইরানের পাসপোর্ট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। আর যাঁদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট নেই, দেশ ছাড়ার পর তাঁদের দ্রুত কোনও মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগও করতে বলেছে ওয়াশিংটন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য, নিরাপদ বোধ করলে, তবেই যেন দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন নাগরিকেরা। কারণ, ওয়াশিংটন তাঁদের কোনও রকম ভাবে সাহায্য করতে পারবে না।
গত মাস দেড়েক ধরে আমেরিকা এবং ইরানের সম্পর্কে তিক্ততা চরমে পৌঁছেছে। তেহরানে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইও প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে শুক্রবার ওমানে দুই দেশ বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচী ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছেও গিয়েছেন। ঘটনাচক্রে, এ সবের মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে ইরাননিবাসী আমেরিকানদের জন্য এল সতর্কবার্তা।
