ভারতের আপত্তি উড়িয়ে কাশ্মীর সংহতি দিবস পালন আবার পালন করেছে পাকিস্তান। তা নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক স্তরে বিড়ম্বনায় পড়ল সে দেশের শাহবাজ শরিফের সরকার। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা হিংসা, হানাহানি, নিপীড়নের ঘটনা ঢাকতেই এই দিনটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ দেখালেন প্রবাসী কাশ্মীরিরা। শামিল হলেন পাক নাগরিকদের একাংশও। পাক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান উঠল, 'সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করুন'।
ব্রিটেন, বেলজিয়াম-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাক কনস্যুলেট এবং দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখান প্রবাসী কাশ্মীরি এবং পাক নাগরিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতে দিনের পর দিন ধরে কাশ্মীরে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানোরও চেষ্টা চলছে। ব্র্যাডফোর্ডে পাক কনস্যুলেটের বাইরে যে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছিলেন, তাঁদের অভিযোগ, পাকিস্তানের ছায়াযুদ্ধ এবং সন্ত্রাসবাদের কারণে গত ৭৮ বছরে এক লক্ষেরও বেশি কাশ্মীরি প্রাণ হারিয়েছেন উপত্যকায়। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকে। বিক্ষোভ হয়েছে লন্ডন এবং ব্রাসেলসের মতো শহরেও।
প্রসঙ্গত, শাহবাজের দাদা নওয়াজ শরিফ সে দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ে ১৯৯১ সালে এই দিনটির সূচনা করেন। প্রতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীর সংহতি দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে। সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গিয়েছে, এই বিশেষ দিনটিকে ভারত বিরোধী প্রচারের কাজে ব্যবহার করেছেন সে দেশের রাজনীতিকরা। এ বারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
প্রেসিডেন্ট জারদারি বুধবার সরকারি রেডিয়োতে কাশ্মীরবাসীর লড়াইয়ে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি ভারতের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলির কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। অন্য দিকে, নয়াদিল্লির উদ্দেশে পাক প্রধানমন্ত্রী শরিফের হুঁশিয়ারি, ‘‘কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই পুরোপুরি ন্যায্য। তাঁদের প্রতি আমাদের অবিচল সমর্থন জারি থাকবে। কাশ্মীরিদের উপর দমন-পীড়ন চালিয়ে কোনও অবস্থাতেই উপত্যকায় স্থায়ী শান্তি ফেরানো যাবে না।’’
