সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাত্র দু’ঘণ্টার অভিযানে শোয়ার ঘর থেকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে বন্দি করেছিল আমেরিকা। রাখা হয় নিউ ইয়র্কের কুখ্যাত ব্রুকলিন জেলে। সোমবার নিউ ইয়র্কের আদালতে হাজির করানো হয় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। সেখানে নিজেকে 'যুদ্ধবন্দি' হিসেবে পরিচয় দিলেন তিনি। যা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তাঁকে বলতে শোনা যায়, ''আমি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট, একজন যুদ্ধবন্দি।'' তাঁর এহেন মন্তব্যকে 'কৌশলী' বলে মনে করা হচ্ছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, মাদত-সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু তিনি চাইছেন বিষয়টাকে অন্যভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে। নিজেকে যুদ্ধবন্দি ঘোষণা করে তাঁর গ্রেপ্তারিকে তিনি প্রতিষ্ঠা করছেন মার্কিন সেনার হাতে 'অপহরণ' হিসেবে।
ওয়াকিবহাল মনে করছে নিজেকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে আখ্যায়িত করে মাদুরো তাঁর মিত্র ও প্রতিপক্ষ উভয়কেই এই বার্তা দিচ্ছেন যে, তাঁর গ্রেপ্তারকে ন্যায়বিচারের পরিবর্তে যুদ্ধের ফলাফল হিসেবে দেখা উচিত। এই দাবি মার্কিন আদালতে ধোপে না টিকলেও হলেও, তা বিদেশে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং আইনি চ্যালেঞ্জের জন্ম দিতেই পারে। তাই সেচেষ্টা করে যাচ্ছেন মাদুরো।
দু'দিন আগে গভীর রাতে মাদুরোকে অপহরণ করে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলায় মাত্র দু’ঘণ্টার অভিযানে প্রেসিডেন্টের বাসভবন তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে বন্দি করা হয়। মাদুরোকে বন্দি করার পর আমেরিকা জানিয়েছিল, নিউ ইয়র্কের আদালতে তাঁর বিচার হবে। সেই মতোই সোমবার বন্দি প্রেসিডেন্টকে ওই আদালতে হাজির করানো হয়েছে। আর সেখানেই 'কৌশলী' পদক্ষেপ মাদুরোর। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।
