রাশিয়ায় একের পর এক মুসলিম ধর্মীয় নেতার গ্রেপ্তারি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, দুর্নীতি, আইনভঙ্গ, চরমপন্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে মুসলিম ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে ক্রেমলিন।
চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী আটজন মুসলিম ধর্মীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করে। যদিও পরে তাঁদের মধ্যে একজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। ধৃতদের মধ্যে ছিলেন কারেলিয়ার এক মুসলিম পণ্ডিত উইসাম বার্দভিল। এক রুশ সংবাদের খবর অনুযায়ী, শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য তিনি গ্রেপ্তার হন। তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। পরে বার্দভিল সহকারী আখমাদ তাঙ্গিয়েভকেও গ্রেপ্তার করে রুশ নিরাপত্তা বাহিনী। অন্যদিকে, গত ১৯ মে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন রাশিয়ার মর্দোভিয়া প্রজাতন্ত্রের বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা রয়াল আসেনভ। এছাড়াও এই গ্রেপ্তারির তালিকায় রয়েছেন আরও অনেকে।
কিন্তু এই গ্রেপ্তারির নেপথ্যে কি অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে? রুশ আধিকারিকরা বলছেন, এই গ্রেপ্তারিগুলি আইন ভাঙা, দুর্নীতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ তদন্তের অংশ। কিন্তু বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে আসলে মুসলিম ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে ক্রেমলিন। চরমপন্থী ইসলামী সংগঠন গোষ্ঠীগুলিকে বারাবরই নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসাবে দেখে রাশিয়া। ফলে তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকলে চরমপন্থা ঠেকানো সহজ হবে। রাশিয়ার জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মুসলিম ধর্মাবলম্বী। বিশেষত উত্তর ককেশাস, তাতারস্তানের মতো অঞ্চলে মুসলিম প্রধান। এই অঞ্চলগুলিতে মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের প্রভাবও অনেক বেশি। তাই রুশ প্রশাসন চায়, তাঁরা যেন রাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে বিরোধে না যান। শুধু তা-ই নয়, বিশ্লেষকদের একাংশের মতে আবার ক্রেমলিন এমন ধর্মীয় নেতাদেরই বেশি গুরুত্ব দিতে চায় যাঁরা সরকারকে সহযোগিতা করেন।
