shono
Advertisement
Arash-e-Kamangir

মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করছে ইরানের প্রবাদপ্রতিম যোদ্ধা! ট্রাম্পের বুকে ভয় ধরাচ্ছে 'আরাশ-ই-কামানগির'

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কিছুদিন পরই আমেরিকা দাবি করেছিল দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ইরানের আস্তিনে আর কী কী মারণাস্ত্র লুকোনো রয়েছে?
Published By: Amit Kumar DasPosted: 06:31 PM May 29, 2026Updated: 06:38 PM May 29, 2026

নতুন করে যুদ্ধের দামামার মাঝেই আমেরিকার অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ধ্বংস করেছে ইরান। আমেরিকাকে জব্দ করতে এই অভিযানে তাঁরা ব্যবহার করেছে এক নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যার নাম 'আরাশ-ই-কামানগির' (Arash-e-Kamangir)। ফার্সি ভাষায় যার অর্থ ‘তীরন্দাজ আরাশ’। ইরানের লোকগাথাইয় আরাশ হলেন এক কিংবদন্তী যোদ্ধা।

Advertisement

ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, হরমুজের কেশম দ্বীপের কাছে এই মার্কিন ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি 'আরাশ-ই-কামানগির' আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এই সাফল্য মিলেছে বলে দাবি। শুধু তাই নয়, দাবি করা হচ্ছে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রথম কোনও যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কিছুদিন পরই আমেরিকা দাবি করেছিল দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ইরানের আস্তিনে আর কী কী মারণাস্ত্র লুকোনো রয়েছে?

'আরাশ-ই-কামানগির' আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইরান প্রশাসনের তরফে বিশদে কিছু জানানো না হলেও, জানা যাচ্ছে, এই অস্ত্র রাডারকে ফাঁকি দেওয়া 'স্টিলথ' প্রযুক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম।

'আরাশ-ই-কামানগির' আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইরান প্রশাসনের তরফে বিশদে কিছু জানানো না হলেও, জানা যাচ্ছে, এই অস্ত্র রাডারকে ফাঁকি দেওয়া 'স্টিলথ' প্রযুক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম। হরাইজন এনগেজের নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলমেইদা আল-জাজিরাকে বলেন, এই ব্যবস্থা সম্ভবত ইরানের অন্যান্য স্বল্পপাল্লার সমরাস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, এটি আগের কোনও ব্যবস্থারই উন্নত সংস্করণ।’ এটি প্রথাগত রাডারের নির্দেশের উপর নির্ভর করে না। হতে পারে এতে রয়েছে তাপ শনাক্তকরণ (হিট-সিকিং) প্রযুক্তি। এটি যে কোনও যায়গায় মোতায়েন এবং ভূমি থেকে আকাশে সহজে নিক্ষেপ করা যায়। সবচেয়ে বড় কথা, এই অস্ত্র প্রমাণ দেয় যে ইরান নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র নকশায় স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে। তাদের গোপন এই মারণাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর বুকে ভয় ধরানোর জন্য যথেষ্ট।

জানা যাচ্ছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'আরাশ-ই-কামানগির' নামকরণ করা ইরান উপকথার এক বীর যোদ্ধার নামে। ইরানের উপকথা অনুযায়ী, ইরান ও তুরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি চুক্তি হয়। ঠিক হয়, ইরানের একজন তীরন্দাজ পাহাড়ের চূড়া থেকে একটি তীর ছুঁড়বেন এবং সেটি যেখানে গিয়ে পড়বে, সেটাই হবে দুই দেশের সীমানা। দেশের সীমানা সর্বোচ্চ দূরত্বে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরাশ ধনুকের ছিলায় তীর বসান। এরপর সর্বশক্তি দিয়ে তা নিক্ষেপ করেন। তীর নিক্ষেপের পর মৃত্যু হয় আরাশের। আর এই তীর অলৌকিকভাবে কয়েক দিন ধরে বাতাসে উড়ে শত শত মাইল দূরে অক্সাস নদীর তীরে একটি আখরোট গাছে গিয়ে বেঁধে। আরাশের আত্মত্যাগের এই কাহিনি ইরানি সংস্কৃতিতে ওতপ্রোত ভাবে মিশে রয়েছে। লোকগাথায় এই যোদ্ধার কীর্তি দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে সমাদৃত।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement