shono
Advertisement
America

গ্রীষ্ম শেষের আগেই কিউবায় 'রিজিম চেঞ্জ' চান ট্রাম্প! দখলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি মার্কিন সেনার

রাজনৈতিক মহলের দাবি, ট্রাম্প আসলে প্রমাণ করতে চাইছেন যে তাঁর শাসনকালে আমেরিকার ঘোষিত শত্রুদের অন্তত একজনের স্থায়ী নিষ্পত্তি হয়েছে। কিউবায় কমিউনিস্ট সরকারের পতন হলে লাতিন আমেরিকায় বামপন্থী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন বড়সড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 02:30 PM May 29, 2026Updated: 02:51 PM May 29, 2026

চলতি বছরে গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার আগেই কিউবাতে কমিউনিস্ট সরকারের পতন চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই লক্ষ্যে কিউবায় ভঙ্গুর সরকারের উপর আর্থিক চাপ আরও বাড়াতে চলেছে আমেরিকার। উদ্দেশ্য ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের এই দ্বীপরাষ্ট্রে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা তৈরি করা যাতে কমিউনিস্ট সরকারের পক্ষে সেখানে টিকে থাকা কঠিন হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের এহেন চাহিদার নেপথ্যে কূটনীতির পাশাপাশি রয়েছে ঘরোয়া রাজনৈতিক স্বার্থ। লক্ষ্য পূরণে সেখানে সেনা নামাতেও ট্রাম্প দ্বিধা করবেন না বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের দাবি, ট্রাম্প আসলে প্রমাণ করতে চাইছেন যে তাঁর শাসনকালে আমেরিকার ঘোষিত শত্রুদের অন্তত একজনের স্থায়ী নিষ্পত্তি হয়েছে। কিউবায় কমিউনিস্ট সরকারের পতন হলে লাতিন আমেরিকায় বামপন্থী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন বড়সড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে পুরো পশ্চিম গোলার্ধে একচেটিয়া দখল প্রতিষ্ঠা হবে আমেরিকার। পাশাপাশি, আগামী নভেম্বর মাসে আমেরিকার দক্ষিনাত্যের প্রদেশগুলিতে রয়েছে সংসদীয় নির্বাচন। সেখানে ট্রাম্প জমানায় মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনধারণের খরচ ব্যাপক বেড়ে যাওয়া, অভিবাসীদের উপর হেনস্থার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। অথচ এই অঞ্চলকে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি বলে মনে করা হয়। নির্বাচনের আগে আমেরিকা যদি কিউবাকে দখলে আনতে পারে সেক্ষেত্রে এখানে ট্রাম্পের বড় জয় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কিউবায় ভঙ্গুর সরকারের উপর আর্থিক চাপ আরও বাড়াতে চলেছে আমেরিকার। উদ্দেশ্য ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের এই দ্বীপরাষ্ট্রে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা তৈরি করা যাতে কমিউনিস্ট সরকারের পক্ষে সেখানে টিকে থাকা কঠিন হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'এক্সিওস'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কিউবাকে বাগে আনতে আর্থিক চাপের পাশাপাশি সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও ট্রাম্প এখনও কিউবায় হামলার অনুমতি দেননি এবং শাসনব্যবস্থা শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনকেই (রিজিম চেঞ্জ) প্রাধান্য দিচ্ছেন। সেই লক্ষ্যে কিউবার অর্থনীতির গলা টিপে ধরতে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। এক মার্কিন কর্তার কথায়, 'কিউবার অর্থনীতিতে কৃত্রিম চাপ পড়লেই দেশটির শাসনব্যবস্থা ভারসাম্য হারাবে এবং রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে। আমরা এখনও শাসনব্যবস্থা উলটে দিতে চাই না, এর একটা পদ্ধতি রয়েছে।'

মার্কিন রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, দেশটিকে ঘিরে ফেলে সমস্তরকম আমদানি বন্ধ করার পাশাপাশি গত মাসে মার্কিন সেনার সাউদার্ন কমান্ড এক সামরিক মহড়া চালায়। যা কিউবাইয় সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সেনা আধিকারিকদের দাবি, এখনই আমেরিকার কোনও পরিকল্পনা নেই কিউবায় সামরিক অভিযানের। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পেলেই আমরা ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। এদিকে, সময় যত গড়াচ্ছে কিউবায় জ্বালানি সংকট চরম আকার নিয়েছে। তৈরি হয়েছে ব্যাপক খাদ্য সংকট। বিদ্যুৎ নেই যার জেরে কারখানা এমনকী চিকিৎসা পরিষেবা শিকেয় উঠেছে দেশটিতে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement