‘নোবেল লোভী’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে নিজের নোবেল পুরস্কার তুলে দিয়ছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো (Maria Corina Machado)। তারপর থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, নিজের নোবেল পুরস্কার অন্যের হাতে তুল দিয়ে কি নিয়ম ভেঙেছেন মাচাদো? পুরস্কারের অর্থও কি তাহলে এবার চলে যাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে? এই পরিস্থিতিতে মুখ খুল নোবেল কমিটি।
২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন মাচাদো। দিনকয়েক আগেই ঘোষণা করেছিলেন, নিজের পুরস্কার তিনি তুলে দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে। ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রীর মতে, নোবেল পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার ট্রাম্প। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিজের নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নিতে চান বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তারপরেই ভেনেজুয়েলায় অপারেশন চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন ফৌজ। এই বিষয়টিকে ‘ভেনেজুয়েলায় স্বাধীনতার সূর্যোদয়’ বলে উল্লেখ করেন নোবেলজয়ী। অনেকে মনে করেছিলেন, মাচাদোকেই ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে আনতে চাইবেন ট্রাম্প। তবে শেষমেষ তা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মাচাদো। তারপরই নিজের অর্জিত নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন তিনি।
তবে পদকের পাশাপাশি মাচাদো পেয়েছিলেন একটি ডিপ্লোমা এবং পুরস্কারমূল্য হিসাবে ১১ লক্ষ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। তাহলে কি সেই অর্থও চলে যাবে ট্রাম্পের হাতে? এই নিয়েই প্রশ্ন উঠছিল বিভিন্ন মহলে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার গোটা বিষয়টি একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন নোবেল কমিটি। তারা জানায়, পদক, ডিপ্লোমা, অথবা পুরস্কারের অর্থ যাই হোক না কেন, ইতিহাসে মূল বিজয়ীর নামই পুরস্কারের প্রাপক হিসাবে লিপিবদ্ধ থাকবে। তিনি তাঁর পদক এবং ডিপ্লোমা কী করবেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। সেখানে নোবেল কমিটি হস্তক্ষেপ করবে না এবং তাতে নোবেল ফাউন্ডেশনের কোনও নিষেধাজ্ঞাও নেই। তিনি সেগুলি কাউকে হস্তান্তর করতে পারেন, বিক্রি করে দিতে পারেন কিংবা উৎসর্গ করে দিতে পারেন। কিন্তু পুরস্কারের প্রাপক এবং স্বীকৃতি হিসাবে মূল বিজয়ীর নামেই সিলমোহর থাকবে।
