পাকিস্তানের বন্দর শহর করাচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এক শপিং মলে আগুন লেগে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত বহু। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এই ঘটনায়। শনিবার রাত দশটা নাগাদ আগুন লাগে।
জানা গিয়েছে, আচমকাই মহম্মদ জিন্না রোড অঞ্চলের গুল প্লাজায় আগুন লেগে যায়। পুরু ধোঁয়া বেরতে থাকে। বহু দূর থেকেই সেই ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। দমকল কর্মীদের রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে আগুন নেভাতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শপিং মলে দাউদাউ করে আগুন লেগে যাওয়ার পর ভয়াবহ ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে এলাকায়। আশপাশের বাড়ির অনেকেই সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্তত ১৬। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দিনের বেলায় আগুন লাগলে আরও বেশি মানুষের মৃত্যু হত বলে মনে করা হচ্ছে।
কী কারণে আগুন লেগেছে, তা এখনও জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ওই মলে গৃহসজ্জার সামগ্রী, পোশাক, খেলনা এবং ইলেকট্রনিক্স বিক্রির দোকান রয়েছে। পোশাক এবং গৃহস্থালীর মতো সরঞ্জামের জন্যই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় বেশিরভাগ দোকানদার তাদের দোকান বন্ধ করে দিচ্ছিলেন। অনেকেই বন্ধ করে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। মহম্মদ আহসান নামে এক দোকদান জানাচ্ছেন, '' ৫ নম্বর গেটে আগুন লাগে। আমরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রটি কাজ করেনি। ফলে শীঘ্রই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।''
দ্রুত এলাকায় পৌঁছয় বেশ কয়েকটি দমকলের ইঞ্জিন এবং অ্যাম্বুল্যান্স। তবে কোনও কোনও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, দমকল বাহিনী আসতে দেরি করেছে। তবে দমকল বিভাগ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি করাচি বন্দরেও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। যার জেরে ব্যাটারি ভর্তি কন্টইনারগুলির প্রভূত ক্ষতি হয়। করাচিতে এই ধরনের আগুন লাগার ঘটনা প্রায়শই ঘটে। কেননা বেশিরভাগ ভবনেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং উদ্ধার সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রেও যন্ত্রের অভাব ও দমকলের দেরি করে পৌঁছনোতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে দাবি।
