কার্যত গোটা বিশ্বের সামনে ইউরোপের তাবড় তাবড় নেতৃত্বের ঘৃণ্য চেহারা গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে এপস্টেইন। কুকীর্তির এই নথিতে কে নেই? বিল ব্লিন্টন থেকে শুরু করে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের রাজকুমার অ্যান্ড্রু, শিল্পপতি বিল গেটস, এলন মাস্ক, সুন্দর মুখের আড়ালে এই সব নেতাদের কুৎসিত চেহারা দেখে স্তম্ভিত বিশ্ব। এই তালিকাতেই রয়েছেন আর এক রাজপরিবারের সদস্য। ইনি নরওয়ের রাজকুমারী তথা পরবর্তী রানি মেত-মারিত। জানা যাচ্ছে, যৌন অপরাধী এপস্টেইনকে অশ্লীল ছবি পাঠাতেন এই রানি। শুধু তাই নয়, এই অপরাধীর বাড়িতে ৪ দিন কাটিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার আমেরিকার বিচার বিভাগের তরফে এপস্টেইন সংক্রান্ত ৩৫ লক্ষ পাতার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রকাশ করা হয়েছে অন্তত দু’হাজারটি ভিডিও এবং ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। যার ছত্রে ছত্রে রয়েছে ইউরোপের ধনকুবের ও প্রভাবশালী নেতৃত্বদের কেচ্ছা। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে এই এপস্টেইন ফাইলেই নথিতেই ১০০০-এর বেশিবার নাম এসেছে নরওয়ের রানির। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল দু'জনের। সেই সম্পর্কের জেরেই ২০১৩ সালে নরওয়ের রানি ফ্লোরিডায় এপস্টেইনের বাড়িতে ৪ দিন কাটান।
সামনে এসেছে দু'জনের ইমেলের অশ্লীল কথোপকথন। এপস্টেইনকে মহিলাদের অশ্লীল ছবি পাঠাতেন রানি। একটি ইমেলে এপস্টেইন বলেছেন, "তুমি আমাকে নেশা ধরিয়ে দাও।" এই ইমেল থেকেই ইঙ্গিত, সম্ভবত নরওয়ের রানির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ছিল এপস্টেইনের। সেসময়ে সঙ্গী হতেন অন্য মহিলারাও। কোথাও রানি লিখেছেন, "আমার ছেলের বয়স ১৫ বছর। ওর ঘরে কি দু'জন নগ্ন মহিলার ছবি রাখা যাবে?" ইমেলে এপস্টেইনকে 'চার্মিং', 'সুইট হার্ট'-বলে উল্লেখ করতেন রানি। যদিও এপস্টেইনের এই নতুন ফাইল প্রকাশ্যে আসার পর নরওয়ের রাজকুমারী বলেছেন, "আমার বিচারবুদ্ধি লোপ পেয়েছিল। এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাটা নিয়ে আমি আজও আফসোস করি। গোটা বিষয়টি খুবই অপমানজনক।"
২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এপস্টেইন ও রানি মেত-মারিতের। সেই সম্পর্কের জেরে ২০১৩ সালে নরওয়ের রানি ফ্লোরিডায় এপস্টেইনের বাড়িতে ৪ দিন কাটান।
তবে শুধু নরওয়ের রানি নন, নরওয়ের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা নোবেল কমিটির প্রাক্তন সদস্য থর্বজর্ন জাগল্যান্ডের নামও সামনে এসেছে এপস্টেইন ফাইলে। ফলে প্রশ্ন উঠছে নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও। কারণ নোবেল শান্তি পুরস্কার নরওয়ের এই কমিটির দ্বারাই প্রদান করা হয়। এপস্টেইন ফাইলের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে এপস্টাইনের সেই বিতর্কিত দ্বীপে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন জাগল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে গিয়েছিলেন কি না তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এইসব তথ্য সামনে আসার পর মুখ খুলেছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর। রানি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
