সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার একটি তেলবাহী জাহাজকে ধাওয়া করে আটক করেছে আমেরিকার উপকূলরক্ষী বাহিনী। এই অভিযানে মার্কিন সেনাকে সাহায্য করেছে ব্রিটিশ বাহিনী। বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানাল ব্রিটেনের সরকার। ১০ ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, মার্কিন সেনার অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে কথাও বলেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সঙ্গে।
বুধবার ট্রাম্প-স্টার্মার কথোপকথন নিয়ে ডাউনিং স্ট্রিট বলেছে, "আমেরিকা এবং ব্রিটেন যৌথ অভিযান চালিয়ে বেলা ১ (রুশ জাহাজ)-কে আটেকেছে। এ ব্যাপারে কথা হয়েছে ডোনাল্ড এবং কিয়ের স্টার্মারের মধ্যে। এ ছাড়াও ইউক্রেনের পরিস্থিতি এবং ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান নিয়েও আলোচনা হয়েছে দু'জনের মধ্যে।" ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও জানিয়েছে, মার্কিন সেনা ব্রিটেনের কাছে সাহায্য চেয়েছিল। সেই মতোই ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) নজরদারি বিমান এবং রয়্যাল নেভির সহায়তা জাহাজ 'আরএফএ টাইডফোর্স' মোতায়েন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই আমেরিকাকে সাহায্য করেছে ব্রিটেন।
‘ম্যারিনেরা’ (সাবেক বেলা-১) নামে জাহাজটিকে পাহারা দিতে একটি সাবমেরিন-সহ নৌসেনা মোতায়েন করার চেষ্টা করছিল রাশিয়া। তা সত্ত্বেও রুশ তেলবাহী জাহাজটিকে কবজা করে মার্কিন মেরিন কমান্ডো বাহিনী। আমেরিকার দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই তেল পরিবহণ করছিল ম্যারিনেরা। মার্কিন ফেডেরাল আদালত থেকে জারি হওয়া পরোয়ানার ভিত্তিতেই রুশ জাহাজটি দখল করেছে আমেরিকা। পালটা মস্কের দাবি, আমেরিকা বেআইনি ভাবে তাদের জাহাজ আটকে রেখেছে।
প্রসঙ্গত, তিন মার্কিন সেনাকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, তেলবাহী জাহাজটির উপর হামলা না-করার অনুরোধ করেছে মস্কো। একদা ইরানের তেল পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হত বেলা-১। পরবর্তী সময় ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজ়ুয়েলা সরকার এই ট্যাঙ্কারটিকে তেল পরিবহণের কাজে ব্যবহার করত বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি।
