সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এই প্রথম। মহাকাশে অসুস্থতাজনিত কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে ফেরানো হচ্ছে চার নভশ্চরের একটি দলকে। 'স্পেস এক্স'-এর ক্রিউ ১১ মিশনের সদস্যের মধ্যে একজনের শারীরিক পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত। স্পেস স্টেশনের ২৫ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম।
জানা গিয়েছে, এই চারজনের মধ্যে নাসার নভশ্চর দু'জন- জেনা কার্ডম্যান ও মাইক ফিঞ্চ। বাকি দু'জন হলেন জাপানের জাক্সার কিমিয়া ইউয়ি এবং রাশিয়ার রসকসমসের ওলেগ প্লাতোনভ। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে তাঁরা কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ফেরার কথা ছিল ২০২৬ সালের মার্চে। কিন্তু আচমকাই মেডিক্যাল এমার্জেন্সির কারণে নির্ধারিত সময়ের মাসদুয়েক আগেই তাঁদের ফেরত আসতে হচ্ছে।
তবে এটা জানানো হয়েছে, অসুস্থ মহাকাশচারীর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে। সেই কারণে কোনও আপৎকালীন 'ডি-অরবিট'-এর প্রয়োজন পড়েনি। যেহেতু অভিকর্ষহীনতায় সমস্ত শারীরিক পরীক্ষা সম্ভব নয়, তাই তাঁদের ফেরানো হচ্ছে। নাসার জারেড আইজ্যাকম্যান এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী ক্রিউ-১২ মিশনের সূচনা এগিয়ে এনে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে করা হচ্ছে। গত বুধবারই ফিঞ্চ ও কার্ডম্যানের একটি স্পেসওয়াক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় আগেই তা বাতিল করা হয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবারই নাসার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় নভশ্চরদের ফেরার বিষয়টি।
এর ঠিক উলটো পরিস্থিতিত তৈরি হয়েছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামসের। যানের ত্রুটির কারণে তাঁদের পৃথিবীতে ফেরা অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছিল। বারবার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষপর্যন্ত সুনীতাদের পৃথিবীতে ফিরতে ফিরতে লেগে যায় ২৮৬ দিন। অবশেষে ভারতীয় সময় গত বছরের ১৬ মার্চে ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ফ্লোরিডার সমুদ্রে অবতরণ করে ‘ড্রাগন ফ্রিডম’।
