shono
Advertisement
Baloch women

বালোচ তরুণীদের মধ্যে বাড়ছে ফিদায়েঁর সংখ্যা! কেন জীবন বিপন্ন করে হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছেন তাঁরা?

শাহবাজ সরকারের ঘুম ছুটিয়েছে বালোচ নারী ফিদায়েঁরা।
Published By: Biswadip DeyPosted: 02:48 PM Feb 03, 2026Updated: 06:52 PM Feb 03, 2026

বিদ্রোহের আগুনে জ্বলছে বালোচিস্তান। পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে বালোচিস্তানের জনগণ। সেই লড়াই এবার নতুন মাত্রা পেল। ফিদায়েঁ হামলায় অন্তত ১০০ পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে বালোচ বিদ্রোহীরা। প্রকাশ্যে এসেছে দুই মহিলা আত্মঘাতী যোদ্ধার ছবি। তাঁদেরই একজন ২৪ বছরের আসিফা মেঙ্গাল। দ্বিতীয় মহিলার পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এই মুহূর্তে জোর আলোচনা মহিলা বালোচ আত্মঘাতী যোদ্ধাদের নিয়ে।

Advertisement

তবে, এই প্রথম যে এমন আত্মঘাতী বালোচ মহিলাদের কথা জানা গেল তা নয়। বালোচ সংখ্যালঘুদের মধ্যে মহিলা আত্মঘাতী যোদ্ধার সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে, যা পাক সেনার হৃদকম্প ধরিয়ে দিচ্ছে। প্রথমবার বালোচ ফিদায়েঁ হামলা হয়েছিল ২০০২ সালে। সেবছরের এপ্রিলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শারি বালোচ করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করেন। দুই সন্তানের জননী নিজেকে উড়িয়ে দেন বিধ্বংসী হামলায়। তিনজন চিনা নাগরিক ও একজন পাক নাগরিকের মৃত্যু হয় সেই হামলায়।

কেন পরপর এভাবে বালোচ নারী ফিদায়েঁর সংখ্যা বেড়েছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পিছনে রয়েছে সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধন এবং ব্যাপক ভয় তৈরি করার প্রবণতাই।

সেই বছরেরই জুনে সাংবাদিক সুমাইয়া কালান্দ্রানি বালোচ, যিনি বিএলএ-র প্রথম পুরুষ আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী রেহান বালোচের বাগদত্তা ছিলেন, বালোচিস্তানের তুরবাতে এক পাকিস্তানি সামরিক বহরকে লক্ষ্য করে একটি আত্মঘাতী হামলা চালান। রেহান ২০১৮ সালে একটি আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ২ মার্চ জাফর এক্সপ্রেস ছিনতাইয়ের এক সপ্তাহ আগে, বানুক মাহিকান বালোচ নামের এক ফিদায়েঁ নারী নিজেকে উড়িয়ে দিলে এতে একজন নিহত এবং তিনজন নিরাপত্তা কর্মী আহত হন।

কিন্তু কেন পরপর এভাবে বালোচ নারী ফিদায়েঁর সংখ্যা বেড়েছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পিছনে রয়েছে সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধন এবং ব্যাপক ভয় তৈরি করার প্রবণতাই। কেননা মহিলা আত্মঘাতীদের আগে থেকে চিহ্নিত করা কঠিন। যদিও পাকিস্তানের মতে, এর পিছনে রয়েছে শোষণের ছবি! 'টোপ' দিয়ে তাঁদের বোকা বানানো হচ্ছে বলে মনে করে শাহবাজ সরকার। যদিও বালোচরা এমন মতামতকে মানে না। তাদের মতে, মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতেই নিজেদের জীবনকে বলিপ্রদত্ত করছে বালোচ নারীরা। যেহেতু তাদের পক্ষে কাজ হাসিল করা সহজ এবং ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করতে মহিলা ফিদায়েঁরাই সেরা নিয়োগ, তাই তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পাক সেনার অকথ্য নির্যাতনের প্রতিবাদে সেখানে তৈরি হয়েছে সশস্ত্র সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি। এই বাহিনীকে দমন করতে গোটা বালোচিস্তানে অত্যাচারের সীমা পার করেছে পাক সেনা। পালটা আসছে প্রত্যাঘাত। বর্তমানে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত পাকিস্তান। পাশাপাশি শাহবাজ সরকারের ঘুম ছুটিয়েছে আর এক বিদ্রোহী সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান। গুরুতর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বালোচ সংগঠনও হামলার ঝাঁজ বাড়িয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement