সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় মাত্র দু’ঘণ্টার অভিযানে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের শোয়ার ঘর থেকে সস্ত্রীক মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন সেনা। তারপর থেকেই গোটা বিশ্বের নজরে তিনি। একদিকে তাঁর ও ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নিয়ে যেমন চর্চা, তেমনই লোকের নজর কাড়তে শুরু করে মাদুরোর পরনের পোশাক! তা আচমকাই ট্রেন্ডিং হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়, অনলাইনে বহু মানুষ অর্ডার করতে থাকেন ধূসর ট্র্যাকস্যুট। ফলে এখন আর কোনও অনলাইন স্টোরে তা লভ্য নেই। অফলাইনে অল্পবিস্তর এখনও পাওয়া যাচ্ছে বটে, কিন্তু সেগুলোও সমস্ত বিক্রি হয়ে যেতে বেশিক্ষণ লাগবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু কী এমন বিশেষত্ব মাদুরোর পোশাকের? কেন তা এভাবে মানুষের নজর কাড়ছে?
আসলে ওই পোশাক তাঁর রাতপোশাক। ধূসর ট্র্যাকস্যুটটি বিখ্যাত সংস্থা নাইকের। ঠিক এমন রঙের ওই সংস্থার ট্র্যাকস্যুটের দাম ১৪০ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা ১২ হাজার টাকার সামান্য বেশি। নাইকের ওয়েবসাইটে মেনস সেকশনে তা লভ্য ছিল। এবং তা বিকোতে বিকোতে চোখের নিমেষে ফুরিয়েও গেল! নেটিজেনরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, এসবই 'গেরিলা মার্কেটিং'-এর ফল! তবে সেই সঙ্গেই আরেকজনের খোঁচা, পোশাকটা তো মাদুরোর গোঁফজোড়ার চেয়েও 'পুরনো'!
মূলত আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মাদুরো সরকারের পতন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল বলে ঠারেঠোরে গত কয়েক মাস ধরেই বোঝাতে চাইছিল আমেরিকা। গত সেপ্টেম্বর থেকে তাই ক্যারিবীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভেনেজুয়েলার একের পর এক জলযানে হামলা চালাতে শুরু করে আমেরিকা। ওই সব নৌকায় মাদক পাচার করা হত বলে দাবি ওয়াশিংটন দাবি করলেও মাদুরো প্রশাসনের বক্তব্য, বেশির ভাগ হামলাতেই প্রাণ গিয়েছে সাধারণ মৎস্যজীবীদের। এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার তেলবাহী দু’টি ট্যাঙ্কারও বাজেয়াপ্ত করে আমেরিকান নৌবাহিনী। ট্রাম্প প্রশাসনের নজর যে আসলে তাঁর দেশের খনিজ তেলের উপরে, তা আগেও বহু বার স্পষ্ট করেছেন মাদুরো।
