ইরানের উপর টানা ১৩ দিন হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। শুক্রবার রাতের দিকে তা বন্ধ হয়েছে। শনিবারও নতুন করে কোনও হামলা হয়নি। ফলে আপাতত কিছুটা শান্ত মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা হামলা বন্ধ করার পর প্রাথমিক ভাবে থেমেছে ইরানও। কিন্তু কেন হঠাৎ মার্কিন সেনাবাহিনীকে থামার নির্দেশ দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, বাহিনীর তরফেই প্রেসিডেন্টকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তার পর হামলা থামানোর সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।
মার্কিন সেনার যুগ্ম চিফ অফ স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন যোগাযোগ করেছিলেন ট্রাম্পের সঙ্গে। ব্যক্তিগত ভাবে প্রেসিডেন্টকে তিনি হামলায় সাময়িক বিরতির পরামর্শ দেন। জানান, তা না-হলে অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়তে পারে। অর্থাৎ, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার যা অস্ত্রভাণ্ডার, যে সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে শত্রুপক্ষের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো হয়, তার ভাণ্ডারে টান পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেইন। যদিও আমেরিকার সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত স্তরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনেক কথাই বলে থাকেন সেনাকর্তারা। যা নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ করা হয় না। তাতেই নাকি আপাতত মাথা ঠান্ডা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। এছাড়া ইরানের কোথায় কোথায় হামলা চালানো হবে, তার একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিল ওয়াশিংটন যার সবগুলিতেই নাকি হামলা হয়ে গিয়েছে। সেটাও নাকি আক্রমণ থামানোর অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে, প্রকাশ্যে না এলেও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবোল্লাকে বার্তা দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মাঝে সোশাল মিডিয়ায় হেজবোল্লার উদ্দেশে তাঁর বার্তা, 'জেহাদ ও প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও পথ নেই।' হেজবোল্লার যোদ্ধাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি। সোশাল মিডিয়ায় হেজবোল্লার প্রশংসা করে ইরানের সুপ্রিম লিডার লেখেন, 'লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা ইরানের দায়িত্ব। ইজরায়েলের ব্যাপক আক্রমণের সামনে একমাত্র হেজবোল্লাই অটল শিলার মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।'
