ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন জেন জি আন্দোলন নিয়ে দেশজুড়ে চর্চা অব্যাহত। দক্ষিণ এশিয়ায় এর আগে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালেও দেখা গিয়েছে তারুণ্যের প্রতিবাদের ঝড়! কিন্তু পাকিস্তানে কেন এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না? একের পর এক সমস্যায় জর্জরিত ইসলামাবাদে কেন এই ঝড় দেখা যাচ্ছে না এই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত, গণ আন্দোলনের বহু কারণই রয়েছে পাকিস্তানে। এর মধ্যে অন্যতম অর্থনীতি। তা কার্যতই দুমরে মুচরে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার আইএমএফের ঋণে কোনওমতে টিকে থাকা। বেকারত্বে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ পাকিস্তান। দেশজুড়ে সেনার আধিপত্য। প্রধানমন্ত্রী কার্যতই সেনার 'হাতের পুতুল'। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও পাক তরুণ-তরুণীদের কোনও আন্দোলনে নামতে দেখা যায়নি এযাবৎ। প্রসিদ্ধ বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে লিখেছেন, 'শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল এবং বর্তমানে ভারতে পরিবর্তনের লক্ষ্যে তরুণদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক আন্দোলন দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানে কেন তেমন কিছু ঘটছে না? এটি এক যুক্তিপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, বেকারত্ব ও বিচ্ছিন্নতাবোধের মতো যেসব বিষয় নিয়ে এসব আন্দোলন, সেগুলো পাকিস্তানেও প্রকটভাবে বিদ্যমান।'
এর অর্থ এই নয় যে, পাকিস্তানের তরুণরা রাজনীতি-বিমুখ। বরং উলটোটাই। এদেশে 'ককরোচ'দের উপরে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় বহু পাক তরুণ সোশাল মিডিয়ায় সীমান্তের ওপারে আন্দোলনকারীদের প্রশংসা করেন। তবে সেই সঙ্গেই তাঁরা আক্ষেপ করেন, এমন আন্দোলনে তাঁদের নামা হয় না। অথচ খোদ পাকিস্তানের ভেতরে তরুণদের সংগঠিত প্রতিবাদ বা ভিন্নমত প্রকাশের বিষয়টি মূলত স্তিমিতই রয়ে গিয়েছে।
তবে দমন-পীড়নের মুখে প্রতিরোধের ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে। জিয়া-উল-হকের সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে শুরু করে বিচার বিভাগের উপর পারভেজ মোশারফের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের আন্দোলন এবং অতি সম্প্রতি বেলুচিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে কর্মীদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি এর উদাহরণ। তবে জোরালো আন্দোলন যে দানা বাধছে না, সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা- প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় পাকিস্তানে ছাত্র রাজনীতির আপেক্ষিক দুর্বলতা, কলেজ চত্বরে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মতো বিষয়ই এর কারণ।
আসলে গত শতকের আটের দশকে জেনারেল জিয়া ছাত্র ইউনিয়ন বিষয়টাই তুলে দেন। সেটা কিন্তু আর ফিরে আসেনি। দশকের পর দশক পেরিয়ে এসে এখন তাই রাজনীতি ও তরুণের মধ্যে সম্পর্ক প্রবল দূরবর্তী হয়ে গিয়েছে। আর তাই ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশে যা দেখা গিয়েছে তা ইসলামাবাদে দেখা যাচ্ছে না। অদূর ভবিষ্যতেও এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা কম বলেই মনে হয়।
