বাংলাদেশে কার্যত ‘মহামারি’র আকার ধারণ করছে হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০৯।
শনিবার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য দপ্তর একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে। প্রাণ হারিয়েছে ৫ শিশু। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৮ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার ৬০৭ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই সময়কালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২০ হাজার ৪৭৫ জন শিশু। তার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শিশুর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮১। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সময়মতো টিকা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর দু'টি বিশেষজ্ঞ কমিটির একটি সভা হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ফিরদৌসি কাদরি। সুপারিশে বলা হয়, শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ববিদ, ভাইরাস বিশেষজ্ঞ, ল্যাবরেটরি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অন্য বিশেষজ্ঞদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই কমিটির কাজ হবে রোগ শনাক্তের অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্দেশনা দেওয়া।
