মধ্যপ্রাচ্যের রণদামামার মাঝে কার্যত বন্দি বিভিন্ন জাহাজের নাবিকরা। তাও কম দিন হল না। গত মাসের শেষে ইরানের উপর ইজরায়েল-আমেরিকার ভয়াবহ হামলার পর পালটা রণকৌশলে বিশ্বের 'তৈল ধমনী' হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। সেই থেকেই বিপদ শুরু। বিভিন্ন দেশের একের পর এক তৈলবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে সেখানে। তেমনই একটি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ 'বাংলার জয়যাত্রা'। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ আটকে পড়া এই জাহাজের ৩১ জন নাবিক সেখানেই ইদের নমাজ পড়েন। পরে দুপুরে বিশেষ ভোজের আয়োজনও করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মাঝে পড়ে গত প্রায় ১০ দিন ধরে পারস্য উপসাগরে আটকে বাংলাদেশের জাহাজটি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাশাহী থেকে ইস্পাতভর্তি জাহাজটি জেবেল আলি বন্দরে পণ্য খালাস করার পর হরমুজ প্রণালি আর অতিক্রম করতে পারেনি। সেই থেকে হরমুজে আটকে জাহাজের ক্যাপ্টেন-সহ সকলে। মাথার উপর দিয়ে অনবরত মিসাইল, ড্রোনের আনাগোনা, সাইরেনের শব্দ শুনতে শুনতেই ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তাঁরা। আগামী ২১ মার্চ, খুশির ইদে সকলের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ইরান-ইজরায়েলের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সব হিসেব ওলটপালট করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের তরফে 'বাংলার জয়যাত্রা'র মাস্টার ক্যাপ্টেন মহম্মদ শফিকুল ইসলাম খান দূর থেকে জানান, ‘‘ইদের দিন এমনিতেই আমরা জাহাজে থাকলেও আনন্দ করি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। তবু সবাই মিলে দিনটা আনন্দে কাটানোর চেষ্টা করছি। মিসাইল–ড্রোনের সতর্কবার্তা এলেও আজ কোনও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি।'' নাবিকরা সকালে ইদের নমাজ শেষে একসঙ্গে ছবি তোলেন। গান শোনা, সিনেমা দেখা আর আড্ডার হালকা মেজাজে দিনটি কাটান। জানা গিয়েছে, ইদ উপলক্ষে এদিন নাবিকদের প্রাতরাশে ছিল সেমাই, নুডলস, খেজুর, ডিম ও জুস। মধ্যাহ্নভোজে ছিল বিশেষ আয়োজন পোলাও, উটের মাংস, গরুর মাংস ও স্মোকড ফিশ। সকলের একটাই প্রার্থনা, কবে এই যুদ্ধ আবহ থেকে মুক্তি মিলবে।
