সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কর্মসংস্থান নিয়ে বড় বার্তা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। কর্মসংস্থান হবে হাজার হাজার মানুষের। শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ার সভায় গিয়ে এমনই আশ্বাস দিলেন তিনি। অভিষেক জানিয়েছেন, আগামী দু’মাসের মধ্যেই শালতোড়ায় সবকটি পাথর খাদান এবং ক্র্যাশারের কাজ চালু হয়ে যাবে। বাঁকুড়ায় শালতোড়ার সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”আগামী দুমাসের মধ্যে শালতোড়ায় সবকটি পাথর খাদান এবং ক্র্যাশারের কাজ শুরু হয়ে যাবে। সেটা হলেই ১৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।” সভায় আসার আগে এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এই বিষয়ে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচির আওতায় জেলায় জেলায় রণসংকল্প সভা করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ায় তাঁর জনসভা ছিল। সেই সভা থেকেই একদিকে বিজেপিকে আক্রমণ শানান। অন্যদিকে বাঁকুড়ার অন্যান্য জায়গা ছেড়ে তাঁর শালতোড়ার সভা কেন, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ''শালতোড়ায় কেন এসেছি জানেন? পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে নবজোয়ারের কর্মসূচির আগে আপনাদের কথা দিয়ে গিয়েছিলাম। সেই কর্মসূচির শেষের পর কিছু জায়গায় আইন মেনে মাইনের কাজ, ক্র্যাশারের কাজ আইনি প্রক্রিয়া মেনে চালু হয়েছিল। কিন্তু অনেক বাধ্যবাধকতা, আদালতের নির্দেশের জন্য পুরোদমে সেই কাজ শুরু করা যায়নি। এখনও পর্যন্ত প্রায় চার-সাড়ে চার হাজার কর্মী এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। পুরোদমে সব ক্র্যাশার কাজ শুরু করে দেয় তাহলে প্রায় ২৫ হাজার লোক পাবে।''
তৃণমূল সাংসদ বলেন, ''সরকারি যে ১৩৩ হেক্টর জমি রয়েছে, সেখানে প্রায় ১৮টি মাইন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে কাজ শুরু হলে কমপক্ষে ২৫ হাজার লোক বাড়তি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।'' এই বিষয়ে গত দু'মাস ধরে কাজ করেছেন বলেও এদিন মন্তব্য করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এমনকী এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর আজ শনিবার সকালে কথা হয়েছে বলে জানান। অভিষেক বলেন, ''গত দুমাস ধরে এই উপর কাজ করেছি। আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া রিভিউ করে আগামী ৩১ মার্চের আগে সব কাজ চালু করে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।''
এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বিজেপিকেও আক্রমণ শানান এদিন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি বলেন, ''একটা মাইনের সরকারি অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক অনুমতির প্রয়োজন হয়। ডাইরেক্টর জেনারেল অফ মাইনিং সেফটির এনওসি পেতে গেলে মাসের পর মাস লেগে যায়। আইনি প্রক্রিয়া মেনে যদি খাদান চালুও করতে হয়, ৩০-৩২ লক্ষ জমা দিতে হয়। তার পরে অনৈতিক ভাবে ডিজি মাইন-কে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ হয়।'' এরপরেই বিজেপিকে তোপ দেগে অভিষেক বলেন,''শালতোড়ার বিধায়ক বিজেপির। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাংসদ ছিল বিজেপির। মানুষকে নিজেদের অধিকারের স্বার্থে লড়তে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ঘুষ দিতে হয়।''
