সদ্য প্রয়াত বালুরঘাটের বিশিষ্ট নাট্যকার তথা নাট্য নির্দেশক হরিমাধব মুখোপাধ্যায় মরণোত্তর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন। রবিবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে প্রকাশ হওয়া তালিকায় হরিমাধব মুখোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। আর এরপরেই উচ্ছ্বাস এবং আবেগে ভাসেন নাটকের শহর বালুরঘাট তথা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মানুষ।
নাট্য নির্দেশক, নাট্যকার এবং নাট্য অভিনেতা হিসেবে বালুরঘাট শহরের হরিমাধব মুখোপাধ্যায় রাজ্যের সংস্কৃতি জগতে একটি অন্যতম নাম। বছর পঁচাশির প্রয়াত অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হরিমাধব নাটকের জগতে পা রেখেছিলেন ১৯৫৮ সালে। অভিনয়, নির্দেশনা তো বটেই, তার লেখা ৫০ টি নাটক তিনটি খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। সারাজীবন নাটকে তার অবদানের জন্য ২০০৭ সালে সংগীত নাটক আকাদেমি থেকে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। এছাড়া ২০১২ সালে বঙ্গভূষণ-সহ একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তার প্রযোজিত নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ভাঙাপট, জল, দেবাংশী, মন্ত্রশক্তি, চিরকুমারসভা, দেবীগর্জন, গ্যালিলিও, তিন বিজ্ঞানী, ঔরাঙ্গজেব ইত্যাদি।
এখানেই শেষ নয়, ১৯৫৬ সালে বালুরঘাটে 'তরুণতীর্থ' তৈরি করেন। সেই নাট্যদল তাঁর নেতৃত্বে অনেক সফল পালা করেছেন। বালুরঘাটে স্কুলের পাঠ শেষ করে কলকাতায় পড়তে এসেও নাটকের মোহ তিনি ছাড়তে পারেননি। নাট্য পরিচালক জগমোহন মজুমদার ও অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের কাছ থেকে থিয়েটার শেখেন। তিন বছর তিনি হাওড়ার 'নটনাট্যম' গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে বালুরঘাটে ফিরে যান। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে বালুরঘাট কলেজে অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত হন। নাট্যকার হিসেবে তিনি জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত। এছাড়া দিশারী এবং বঙ্গরত্ন পেয়েছেন। এবার মরণোত্তর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন তিনি।
যা সেই জেলার মানুষের কাছে অবশ্যই বাড়তি পাওনা বলেই মত। বালুরঘাটের নাট্য ব্যক্তিত্ব জিষ্ণু নিয়োগী বলেন, ''বালুরঘাট তথা জেলার নাট্য ব্যক্তিত্ব হরিমাধবের এই সন্মান প্রাপ্তি সত্যিই গর্বের। বালুরঘাট তথা জেলার এই প্রাপ্তি দিশা দেখাবে জেলার নাট্য সংস্কৃতি মহলে।''
