অঙ্ক নিয়ে কম বেশি সব পড়ুয়ার মধ্যেই ভীতি কাজ করে। অধিকাংশই ভাবে, কোনওরকমে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ফেলতে পারলেই মুক্তি। অঙ্কের প্রতি এই ভয় কাটাতেই এক অভিনব উদ্যোগ নিল সীমান্তবর্তী এলাকার একটি স্কুল। বসিরহাটে এই প্রথম কাটিয়াহাট বিকেএপি ইনস্টিটিউশনে চালু হল 'ম্যাথমেটিক্স ল্যাবরেটরি' অর্থাৎ গণিতের পরীক্ষাগার। বাদুড়িয়া ব্লকের এই স্কুলের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই শিক্ষা মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।
৮২ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় স্কুলে। সেখানেই গণিত পরীক্ষাগারের শুভ উদ্বোধন করেন বসিরহাটের এডিআইঅফ স্কুলস স্নিগ্ধা জানা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এআই অফ স্কুলস গৌরহরি প্রামাণিক-সহ একাধিক বিশিষ্ট অতিথি। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে স্নিগ্ধা জানা জানান, বিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং প্রধান শিক্ষকের কর্মদক্ষতা তাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে গণিত পরীক্ষাগারের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন দেখে তিনি খুবই খুশি। তার কথায়, "বহু ছাত্রছাত্রী অঙ্ককে ভয়ের চোখে দেখে। কিন্তু এই পরীক্ষাগারে হাতে-কলমে অনুশীলনের সুযোগ পেলে অঙ্ক অনেকটাই সহজ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।" বসিরহাট মহকুমায় এই ধরনের উদ্যোগ এই প্রথম, যা আগামী দিনে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবে বলেও তিনি আশাবাদী।
ম্যাথেমেটিক্স ল্যাবরেটরির ছবি।
দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা গণিতভিত্তিক নানা মডেল প্রদর্শনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেয়। নিয়মিত পড়াশোনার বাইরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মিলিত অংশগ্রহণে গোটা স্কুলজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। গণিত পরীক্ষাগারের মাধ্যমে জটিল বিষয়গুলিকে সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অঙ্কের প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলেই মনে করছেন অভিভাবকেরাও। প্রধান শিক্ষক প্রীতিময় মণ্ডল বলেন, "ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই গণিত পরীক্ষাগার গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বৌদ্ধিক বিকাশের পাশাপাশি মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অঙ্ক যেন ভয়ের বিষয় না হয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার বিষয় হয়ে ওঠে, সেটাই এই পরীক্ষাগারের মূল লক্ষ্য।"
