বিজেপিশাসিত ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি দাগিয়ে মারধরের অভিযোগ দীঘর্দিনের। এই বিষয়ে সরব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভা থেকে ফেরার পথে বিহারে আক্রান্ত হলেন বাংলার এক বিজেপি কর্মী। ছেলেধরা সন্দেহে তাঁকে 'গণপিটুনি' দেওয়া হল। কোনওমতে প্রাণে বেঁচে বাড়ি ফিরে এসেছেন ওই ব্যক্তি। সারা গায়ে কাটাছেঁড়া, কালসিটে দাগ নিয়ে দুঃস্বপ্ন, আতঙ্কে রয়েছেন তিনি! জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে ফেরার পথে ভুল ট্রেনে চড়ে তিনি বিহারে চলে গিয়েছিলেন।
আক্রান্ত ওই বিজেপি কর্মীর নাম সোমনাথ বর্মন। তিনি উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের ভলকাবারোবিশা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বারুইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভা ছিল কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। উত্তরবঙ্গ থেকে পেশায় দিনমজুর সোমনাথ বর্মনও মোদির সভায় যান। সভা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনও ধরেছিলেন। কিন্তু তিনি ভুল করে অন্য ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন। সেই বিষয়টি বুঝতে পেরে বিহারের কিষাণগঞ্জ স্টেশনে নেমে পড়েছিলেন। আর তারপরই ঘটে ওই দুঃসহ ঘটনা।
অভিযোগ, ওই জায়গায় তাঁকে ছেলেধরা সন্দেহে পাকড়াও করা হয়। বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত পুলিশ তাঁকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তিনদিন পুলিশ হেফাজতেই ছিলেন।
অভিযোগ, ওই জায়গায় তাঁকে ছেলেধরা সন্দেহে পাকড়াও করা হয়। বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত পুলিশ তাঁকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তিনদিন পুলিশ হেফাজতেই ছিলেন। চোট-আঘাত নিয়েই কোনওরকমে বৃহস্পতিবার তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছেন। আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না। সোমনাথ বর্মন বলেন, "ফিরে আসার সময় হাওড়া স্টেশনে আমি সহযাত্রীদের হারিয়ে ফেলি। তারপর একটি ট্রেনে উঠে ভুল করে বিহারের কিষানগঞ্জে নেমে পড়ি। সেখানে ছেলেধরা সন্দেহে আমাকে মারধর করা হয়। পুলিশ আমাকে উদ্ধার করায় প্রাণে বেঁচে যাই। পুলিশের হেপাজতেই ছিলাম তিনদিন। পরে পুলিশরাই আমাকে একটি ট্রেনে তুলে দিলে বাড়ি পৌঁছতে পেরেছি। আমি এখনও অসুস্থ।" তিনি আরও বলেন, স্থানীয় এক বিজেপি নেতা চিকিৎসার জন্য ১৫০০ টাকা দিয়েছেন।
কোনওমতে প্রাণে বেঁচে বাড়ি ফিরে এসেছেন ওই ব্যক্তি। সারা গায়ে কাটাছেঁড়া, কালসিটে দাগ নিয়ে দুঃস্বপ্ন, আতঙ্কে রয়েছেন তিনি! জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে ফেরার পথে ভুল ট্রেনে চড়ে তিনি বিহারে চলে গিয়েছিলেন।
কিন্তু বাংলার বিজেপি কর্মী গেরুয়াশাসিত রাজ্যে এভাবে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হলেন কীভাবে? প্রবল মারধরে তাঁর মৃত্যুও হতে পারত! ঘটনার পর কী ব্যবস্থা নিয়েছে বিহার পুলিশ? অভিযুক্তদের কি গ্রেপ্তার করা হয়েছে? সেসব প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ঘটনা জানাজানি হতেই ফের ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। বিজেপিকেও খোঁচা দেওয়া হয়েছে। যদিও ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব মুখে কুলুপ এঁটেছেন বলে খবর।
