shono
Advertisement
Birbhum

পালাবদলের পর কাজলের গরহাজিরায় থমকে স্থায়ী সমিতির বৈঠক! অনাস্থা অনুব্রত ঘনিষ্ঠদের

জেলা পরিষদের কাজকর্ম যাতে স্বাভাবিকভাবে চলে তা নিশ্চিত করতেই এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
Published By: Kousik SinhaPosted: 05:33 PM Aug 04, 2026Updated: 07:06 PM Aug 04, 2026

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই জেলা পরিষদে দেখা যাচ্ছিল না কাজল শেখকে। তার মধ্যেই শুরু হয় অডিট। এবার বীরভূমের জেলা সভাধিপতি কাজল শেখের বিরুদ্ধে জমা পড়ল অনাস্থা প্রস্তাব। বীরভূম জেলা পরিষদের ৫২ জন সদস্যের মধ্যে ১৯ জন সদস্য এই অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। জেলা পরিষদের সদস্য তথা প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ নবগোপাল বাউড়ি মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পরিষদে এসে এই অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, মোট সদস্যের এক তৃতীয়াংশ সদস্য চাইলে অনাস্থা আনতে পারেন৷ সেই হিসাবে এই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ারই কথা। যদিও শেষমেশ কি হয় সেদিকেই নজর সবার। তবে এদিন যারা কাজলের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন তাঁরা সবাই অনুব্রত ঘনিষ্ঠ বলে দাবি। 

Advertisement

কাজল শেখ বলেন, ''অডিট চলছে। আমি চাই, আমার অবর্তমানেই জেলা পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অডিট হোক। আমি কোনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি। যদি আমার বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সভাধিপতি ও বিধায়ক দুই পদ থেকেই ইস্তফা দেব।''

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে আর একদিনও জেলা পরিষদে আসেননি কাজল শেখ। থমকে রয়েছে স্থায়ী সমিতির বৈঠকও। এই অবস্থায় জেলা পরিষদের কাজকর্ম যাতে স্বাভাবিকভাবে চলে তা নিশ্চিত করতেই এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই অনাস্থা প্রস্তাবে একাধিক কর্মাধ্যক্ষের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্বাক্ষর রয়েছে জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি তথা সিউড়ির প্রাক্তন বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীরও। সমস্ত পদ্ধতি নিয়ম মেনে চললে আগামী দিন পাঁচেকের মধ্যেই এই বিষয়ে পদক্ষেপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর বীরভূম জেলার ১১টি বিধানসভার মধ্যে ছয়টিতে জয় পায় বিজেপি এবং পাঁচটিতে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। হাসন বিধানসভা থেকে জয়ী হন ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখ। পরবর্তী সময়ে যদিও দীর্ঘদিনের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন তিনি। যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আসল' তৃণমূলে। এ বার সেই কাজল শেখের বিরুদ্ধেই সক্রিয় হল দলেরই একাংশ। সম্প্রতি জেলা পরিষদে শুরু হয়েছে অডিটের প্রক্রিয়া। এরপরই কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে কাজল শেখ বলেন, ''অডিট চলছে। আমি চাই, আমার অবর্তমানেই জেলা পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অডিট হোক। আমি কোনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি। যদি আমার বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সভাধিপতি ও বিধায়ক দুই পদ থেকেই ইস্তফা দেব।'' এমনকী বালি, পাথর, কয়লা বা গোরু পাচারের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, "জেলার কোনও বালি মাফিয়ার সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। ডেউচা-পাঁচামির পাথর খাদানেও আমি কোনও দিন পা দিই নি।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement