মকর সংক্রান্তির দিনে নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে কার্যত হাতেখড়ি হল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো দেবদীপ অধিকারীর। বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় 'সেবাশ্রয়' স্বাস্থ্য শিবিরে উপস্থিত থাকবেন। তার আগে বুধবার স্থানীয় গাংড়াচরের মন্দিরে মকর সংক্রান্তির পুজোর পর প্রসাদ বিতরণে নিজের প্রতিনিধি হিসাবে ভাইপোকে শামিল করলেন বিরোধী দলনেতা ও স্থানীয় বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। ভাইপোর রাজনীতিতে অভিষেকপর্বে এভাবেই শুভেন্দু তাকে জনতার মুখোমুখি হাজির করলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও প্রসাদ বিতরণের সঙ্গে রাজনীতি কোনও যোগ নেই বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। অন্যদিকে নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা বাপ্পাদিত্য গর্গের প্রতিক্রিয়া, "আসলে শুভেন্দু অধিকারী ভাইপো আতঙ্কে ভুগছেন। তাই নিজের ভাইপোকে নন্দীগ্রামে পাঠিয়ে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইছেন।"
জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর বড় ভাই কৃষ্ণেন্দু অধিকারীর ছেলে হলেন দেবদীপ। বয়সে তরুণ। আইনের ছাত্র। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও নন্দীগ্রামের গাংড়াচরে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে খিচুড়ি ভোগ বিতরণ করছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো দেবদীপ অধিকারী। রাজনীতি তার পছন্দের বিষয়। মেজ কাকা অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারীর খুব কাছের মানুষ দেবদীপ। ছোট থেকেই মেজ কাকাকে অনুসরণ করে আসছেন দেবদীপ। সাধারণত নন্দীগ্রামের কোনও কর্মসূচিতে যেতে না পারলে এতদিন শুভেন্দু তাঁর সেজ ভাই তথা তমলুকের প্রাক্তন সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীকে পাঠাতেন। কিন্তু বুধবার এই প্রথম নন্দীগ্রামে মেজ কাকার প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা গেল দেবদীপকে। যা নিয়ে জেলার রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
মকর সংক্রান্তিতে নন্দীগ্রামে বরাবরই উৎসব করেন এলাকার বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নন্দীগ্রামের গাংড়াচরে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গামন্দিরে পুজো দেন দেবদীপ। দেখা যায়, কপালে টিকা লাগিয়ে শুভেন্দুর ভাইপো দেবদীপ সেই প্রসাদ বিতরণ করছেন। ভাইপোকে নন্দীগ্রামে পাঠিয়ে শুভেন্দু এদিন চলে যান ঝাড়গ্রামের কর্মসূচিতে যোগ দিতে। এই প্রসঙ্গে তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহা বলেন, "এর সঙ্গে রাজনীতির দূর দূর পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে মন্দিরে পুজো দিয়ে দেবদীপ তার প্রসাদ বিতরণ করেছেন। এখানে রাজনীতির কিছু নেই।"
