shono
Advertisement
Abhishek Banerjee

বাংলাদেশি সন্দেহে বেঙ্গালুরু পুলিশের হাতে আটক কাকদ্বীপের ৬, ত্রাতা হয়ে আসরে অভিষেক

পুলিশের বাজেয়াপ্ত নথি ও মোবাইল ফোন এখনও ফেরত পাননি তাঁরা, তাই বাড়ি ফেরা আটকে বলে জানাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 06:27 PM Feb 27, 2026Updated: 07:20 PM Feb 27, 2026

কর্নাটকে কাজে গিয়ে বাংলা বলায় বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন কাকদ্বীপের এক পরিবারের ছ'জন। বেঙ্গালুরুর বাগলুরু থানায় তাঁদের আটকে রেখে চরম হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের এই দুর্দশা কাটাতে শেষপর্যন্ত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হস্তক্ষেপে দু'দিন পর আটক ওই বাঙালি পরিবার মুক্তি পেল। এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের ওই পরিবার। যদিও তাঁদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা সমস্ত নথি ও মোবাইল ফোন শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়নি বলে খবর। সেসব ফেরত পেলেই কাকদ্বীপের বাড়িতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই পরিবারটি।

Advertisement

কর্নাটকে কাজে গিয়ে বাংলা বলায় বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন কাকদ্বীপের এক পরিবারের ছ'জন। বেঙ্গালুরুর বাগলুরু থানায় তাঁদের আটকে রেখে চরম হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের এই দুর্দশা কাটাতে শেষপর্যন্ত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে দু'দিন পর আটক ওই বাঙালি পরিবার মুক্তি পেল।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ ফেব্রুয়ারি। বেঙ্গালুরুতে যে ভাড়া ঘরে ছ'জনের ওই পরিবারটি থাকত, সেখানে আচমকা হানা দেয় পুলিশ। ওই পরিবারের ছয় সদস্যকে বাংলাদেশি সন্দেহে প্রথমে ওই ভাড়া ঘর থেকেই পুলিশ থানায় তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পুলিশের হাতে আটক হওয়া ওই ছ'জন - সাকিবুল রহমান মোল্লা, সাকিবুলের জেঠা রইচ আলি মোল্লা, জেঠিমা সর্বানু বিবি, রইচ আলির ছেলে হাবিবুল মোল্লা, হাবিবুলের স্ত্রী রেজিনা বিবি ও রেজিনার ছ'বছরের নাবালক পুত্র হৃদয় আহমেদ মোল্লা। তাঁরা সকলেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ বিধানসভার ঢোলাহাট থানার রামগোপালপুরের বাসিন্দা। সাকিবুল বেঙ্গালুরুতে হোম ডেলিভারির কাজ করতেন। রইচ আলি ও তাঁর স্ত্রী সর্বানু বিবি বেঙ্গালুরুতে কাগজ কুড়িয়ে বিক্রি করতেন।

সাকিবুলের বাবা আবদুর রহমান মোল্লার কাছে বেঙ্গালুরু থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি অচেনা একটি নম্বর থেকে ফোন আসে এবং সেই ফোনে পুলিশের হাতে আটক হওয়া পরিবারের এক সদস্যা জানান, তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিশ থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে আটক করে রেখেছে। এরপর থেকে যতবারই ফোনে তিনি যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। বেঙ্গালুরুতে থাকা অন্য আত্মীয়স্বজনদের মারফত ফোনে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন তিনি। সাকিবুলের বাবা জানান, বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বেঙ্গালুরু পুলিশ ওদেরকে বেঙ্গালুরুতে ভাড়াঘর থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় থানায়। সেখানে ওদের 'বাংলাদেশি' আখ্যা দেয় এবং ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। ওদের কাছ থেকে যাবতীয় সমস্ত নথি এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। ওদের বাংলাদেশী আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ছেলে সাকিবুলকে বেঙ্গালুরু পুলিশ মারধরও করেছে বলে তাঁর অভিযোগ।

তাঁর ছেলে সাকিবুল বেঙ্গালুরু পুলিশকে কাকদ্বীপের বিধায়ক এবং মথুরাপুরের সাংসদের সঙ্গেও কথা বলার অনুরোধ করে কিন্তু কোনও কথাই কানে তোলেনি বেঙ্গালুরু পুলিশ। ছেলের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সার্টিফিকেট, দলিলের কপি-সহ অন্যান্য নথি বেঙ্গালুরু পুলিশকে পাঠান তিনি। কিন্তু তা সত্বেও মুক্তি মেলেনি তাঁর পরিবারের ওই ছয় সদস্যের।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement