নন্দন দত্ত, সিউড়ি: দিন তিনেকের মধ্যে ফের বীরভূমের (Birbhum) বগটুই গ্রামে আগুন। আবারও এক তৃণমূল (TMC)সমর্থকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ফিরল আতঙ্ক। সোমবার গভীর রাতে রামপুরহাট বিধানসভার বড়শাল পঞ্চায়েতের বগটুই (Bagtui)গ্রামে তৃণমূলের সমর্থকের বাড়িতে আগুন (Fire) ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা মুর্শিদা বিবির মাটির বাড়ির ছাদে আগুনের ঘটনায় পুড়ে গিয়েছে বাড়ির অনেক কিছু। শনিবার রাতেও তাঁর বাড়িতে এভাবে আগুন লাগানো হয়েছিল। যার জেরে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের লোকজনেরা।

গত শনিবার রাত ৮টা নাগাদ বগটুই গ্রামে মুর্শিদা বিবি নামে এক তৃণমূল সমর্থকের বাড়িতে আগুন লেগেছিল। তবে সেদিন ততটা ক্ষতি হয়নি। আর সোমবার রাতে তাঁর বাড়ির মাটির চালে আগুন লেগে যায়। মুর্শিদা বিবি জানিয়েছেন, ঘরের উপর থেকে আওয়াজ হতে থাকে। বাচ্চার কান্নায় ঘুম ভেঙে যায়। তিনি প্রথমে আগুন লেগেছে বলে বুঝতে পারেননি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে তাপ ও ধোঁয়া দেখে বুঝতে পারেন, ফের আগুন লেগেছে। সদর দরজা খুলে মেয়েকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে প্রাণ বাঁচান।
[আরও পড়ুন: কলকাতা পুলিশে প্রচুর নিয়োগ, মন্ত্রিসভার বৈঠকে দার্জিলিংয়ের পর্যটন নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত]
মুর্শিদা বিবির অভিযোগ, কেউ বা কারা তাঁর ঘরে বারবার আগুন লাগিয়ে গিয়েছে। তিনি তৃণমূল সমর্থক বলেই বারবার তাঁর উপর এভাবে আক্রমণ ধেয়ে আসছে। তবে কে বা কারা এই কাজ করছে, সে বিষয়ে তিনি একেবারেই অন্ধকারে। এর জেরে গোটা পরিবার আতঙ্কিত। খবর পেয়ে ভোরেই সেখানে গিয়েছে রামপুরহাট থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
[আরও পড়ুন: পুলিশ ধরতেই ঘুষের টাকা গিলে ফেললেন সরকারি কর্মী!]
২০২২ সালের ২১ মার্চ। বগটুইবাসীই শুধু নয়, সমগ্র রাজ্যবাসীর কাছে সে রাতের স্মৃতি টাটকা। রাতের অন্ধকারে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছিল ১০ জনের। তার আগে অবশ্য পঞ্চায়েত দখল নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে বড়শাল পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখকে গুলি ও বোমা মেরে খুন করা হয়। তারই পালটা বগটুই গ্রামে ১০ জনকে পুড়িয়ে খুন করা হয়। এবার সেই গ্রামেই বারবার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে তৃণমূল সমর্থকের উপর।
অন্যদিকে, বীরভূমের খয়রাশোলে লোকপুর গ্রামে এক তৃণমূল কর্মীর নির্মীয়মাণ বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। বালির মধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। তবে হতাহতের কোনও খবর নেই।