ধনরাজ ঘিসিং, দার্জিলিং: সোমবার কার্শিয়াং বাজারে টয়ট্রেনের ধাক্কায় জখম দুই কিশোরীর একজনের মৃত্যু হল মঙ্গলবার। শিলিগুড়ির এক বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাকে ঘিরে কার্শিয়াং রেল স্টেশনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখায়। জিটিএ প্রধান অনীত থাপা টয়ট্রেন চালক এবং দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের বিরুদ্ধে কার্শিয়াং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। উত্তেজনার জেরে এদিন বাতিল হয়ে যায় পর্যটকদের চারটি জয় রাইড।
মৃতের নাম রোশনি রাই। বয়স ১৫ বছর। সোমবার দুপুরে কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপারের সময় টয়ট্রেনের ইঞ্জিনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে জখম হয় মকাইবাড়ি চা বাগানের কালাপানির বাসিন্দা দুই কিশোরী রোশনি রাই ও প্রতীক্ষা রাই। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, ঘটনার পর চালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বারবার হুইসেল দিয়েছেন কিন্তু মেয়ে দু'টির কানে হেডফোন থাকায় টের পায়নি। এদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের পর তিনি বলেন, "মৃতের পরিবারকে সাহায্য করা হবে। দুর্ঘটনার পর চালকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ফের চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।"
যদিও জিটিএ প্রধান অনীত থাপা রেল কর্তাদের বক্তব্য মানতে চাননি। তিনি বলেন, "ঘটনা নিয়ে কার্শিয়াং থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি আইনি লড়াই করব। টয়ট্রেনে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে এবং চালকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি।" অনীত জানান, ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য মকাইবাড়ির পঞ্চায়েত প্রধান পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। মৃতের পরিবার যেন বিচার পায় সেজন্য ওই কমিটি লড়াই করবে। রেল যদি ক্ষতিপূরণ না দেয় তবে তিনি নিজেই ক্ষতিপূরণ দিতে প্রস্তুত। এদিন দুপুরের পর রোশনির মৃত্যুর খবর কার্শিয়াংয়ে পৌঁছাতে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়রা রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেন। যদিও বিকেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।