২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার জি ফাইভ বাংলায় মুক্তি পেল অভিরূপ ঘোষ পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘কালীপটকা’। নিম্ন মধ্যবিত্ত আর্থসামাজিক পরিসর থেকে উঠে আসা চার আগুনে মেয়ের বেঁচে থাকার লড়াই এই সিরিজের কেন্দ্রে। ট্যানারিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা শ্রীমা (স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়), দিনে টোটোচালক ও রাতে দেহ ব্যবসায়ী রানি (শ্রুতি দাস), লোকের বাড়িতে রান্নার কাজ করা মিনতি (শ্রেয়া ভট্টাচার্য) এবং বিউটি পার্লার থেকে ছাঁটাই হওয়া সস্তার উত্তেজক রিলমেকার রিঙ্কু (হিমিকা)। একটা ঘটনা ঘুরিয়ে দেয় তাদের জীবন। পুলিশ এবং পাড়ার ডনের (অনির্বাণ চক্রবর্তী) সঙ্গে পাল্লা দেয় এই চারজন।
ছবি: সংগৃহীত
মারকাটারি মেয়েদের গল্প বলবে ‘কালীপটকা’। মৃগয়ার ‘ফোর স্কোয়্যার’ পুলিশ অফিসারের গল্প বলার পর এবার অভিরূপের ‘ফোর-বিডেন’ মেয়েদের এন্ট্রি। ট্রেলার এবং প্রিভিউ দেখে মনে হচ্ছে এরা কালীপটকা নয় বরং চকোলেট বোমা। এদের গল্প তৈরি হল কীভাবে? পরিচালক জানালেন, “এই গল্পটা আমি অনেকটা সময় নিয়ে লিখেছি। প্রায় পাঁচবছর বলতে পারো। যেহেতু এই পরিবেশ নিয়ে আমি আগে কাজ করিনি এবং এই আর্থসামাজিক পরিসরে আমার যাপন হয়নি তাই কথা বলে, অনেকটা অবজার্ভ করে লিখতে হয়েছে। শুরুর আইডিয়াটা মজার ছলেই আড্ডা মারতে গিয়ে বেরিয়ে আসে!” ট্রেলার দেখে অনেকেই বলছেন হিংসা দেখানো হয়েছে, স্ল্যাং ব্যবহার হয়েছে! অভিরূপ জানান, “গল্পটা আসলে ডার্ক কমেডি। একটা খুব সিরিয়াস বা মরবিড ঘটনা ঘটছে কিন্তু চরিত্রদের হাবভাবে বা তারা যেভাবে রিয়্যাক্ট করছে তাতে একটা মজা আছে। কমেডি কিন্তু স্ল্যাপস্টিক নয়। ট্রেলারে সবটা বোঝা যাচ্ছে না হয়তো।” পরিচালক এও জানান স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কাজ করার ইচ্ছে অনেকদিনের। “স্বস্তিকা সবসময় খুব ইনটেন্স চরিত্রে অভিনয় করে, এই ধরনের মজার অথচ ডার্ক চরিত্রে ওঁকে কাস্ট করতে চেয়েছিলাম। আর এই সিরিজে প্রত্যেকের চরিত্র সমান গুরুত্বপূর্ণ। চিত্রনাট্যে সকলের প্রেজেন্স ব্যালেন্সড, যেটা আমি ‘মৃগয়া’র ক্ষেত্রে করতে পারিনি। আর যেটা দরকার ছিল সেটা হল চার জনের কেমিস্ট্রি। সেটা দারুণ ভাবে ক্লিক করে গিয়েছে।”
ছবি: সংগৃহীত
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের মুখেও একই কথা, তবে তিনি প্রথমে বিশ্বাস করতে চাননি এমন গল্প তাঁকে অফার করা হচ্ছে! “আমি গল্প শুনে বলেছিলাম ট্যানারিতে কাজ করে? বস্তিতে থাকে? আমাকে কাস্ট করতে চাইছ? জিফাইভ এটা জানে? তার পর স্ক্রিপ্ট পেয়ে মনে হল স্বর্গ পেলাম। আজ অবধি কেউ আমাকে এই ধরনের সাব অল্টার্ন চরিত্র অফার করেনি। কীভাবে কী করব এই নিয়ে প্রথম থেকেই বোনের (অজপা মুখোপাধ্যায়) সঙ্গে ব্রেনস্টর্মিং করেছি। আর অভিরূপকে কনভিন্স করতে হয়েছে যে আমি আমার ডিকশন পাল্টাব। যেন অভিনয় করতে গিয়ে কিছুতেই সাউথ কলকাতা না বেরিয়ে আসে”, বলছিলেন স্বস্তিকা। তাঁর সব চেয়ে কী ভালো লেগেছে জানতে চাইলে স্বস্তিকা জানান, “এই চারজন বিশেষ করে শ্রীমা আর রানি, এদের মধ্যে জিরো গিল্ট, জিরো শেম, জিরো অ্যাপোলজি। তাদের জীবনের চয়েস তাদেরই! তাদের কর্মফল তার মাথা উঁচু করে বহন করে, নিজেদের জাস্টিফাই করে না।” এই ওয়েব সিরিজের ক্যাচলাইন হল– ‘নারীর পাওয়ার, ফাটবে সবার’! পরিচালক নিজে এই বয়ানের সঙ্গে এক মত? অভিরূপ জানান, “আমি এটা বলার কেউ নই। আর এই সিরিজকে আলাদা করে ফেমিনিস্ট প্রোপাগান্ডা সিরিজ বলে দাবিও করছি না। তবে নারী যদি মনে করে সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবে, অ্যান্ড ইফ শি টেক চার্জ, দেন ইট স্কেয়ার্স মেন!”
বিদিশা চট্টোপাধ্যায়
