আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার ছাঁদনাতলায় বসায় বুধবার রাতেই হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে এদিন সন্ধেবেলাই প্রথমবার মুখ খুলে বোমা ফাটিয়েছিলেন নেতা-অভিনেতার দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরি। নবপরিণীতা সাফ জানিয়েছিলেন, "৫ বছর ধরে হিরণের সঙ্গে আছি। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা তো সবই জানত।" কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা যেতে না যেতেই ডিগবাজি খেয়ে পোস্ট সরালেন হিরণের 'গার্ন্ধব্য মতে' বিয়ে করা পত্নী।
বিজেপির তারকা বিধায়কের দ্বিতীয় 'বিবাহ অভিযান' যেন ধারাবাহিকের চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে! একদিকে প্রথমা স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়, আরেকদিকে নবপরিণীতা ঋতিকা গিরি, দু'জনের পরোক্ষ ভার্চুয়াল বাকবিতণ্ডা নিয়েও চর্চার নেই। তবে দিন তিনেক ধরে চলা বিতর্কের জল এতদূর গড়ালেও এখনও পর্যন্ত হিরণের মুখে কুলুপ। অনিন্দিতার আইনি হুঁশিয়ারিতেও 'টু' শব্দটি করেননি তিনি। এদিকে সতীনকে আইনি চ্যালেঞ্জ ছোড়া পোস্টও সরিয়ে ফেলেছেন ঋতিকা গিরি। স্বাভাবিকভাবেই এহেন 'জটলা' নিয়ে কৌতূহলের উদ্রেক হয়েছে। ঋতিকার পোস্ট ডিলিট নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এবার সেপ্রসঙ্গেই মুখ খুললেন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। প্রথম স্ত্রী'র মন্তব্য, "আমি সত্যি বলেছি বলেই পোস্ট মুছে দিয়েছেন। বারাণসীর মতো পবিত্র জায়গায়, মা গঙ্গাকে সাক্ষী রেখে নাকি পবিত্র বিধিতে হিরণের সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে- ঋতিকা নিজের পোস্টে তো একথাগুলিই লিখেছিলেন। কিন্তু আমার মনে হয়, শিব আমার উপরই বেশি সন্তুষ্ট। তাই তো যথাযথ তথ্যপ্রমাণ সামনে আনতে পেরেছি।" শুধু তাই নয়, হিরণের নতুন বউ ঋতিকাকে 'সামাজিক অপরাধী' বলেও তোপ দেগেছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে অনিন্দিতাই জানান, ঋতিকা গিরি আসলে বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্য। সেই প্রেক্ষিতেই খড়্গপুরের বাড়িতে যাতায়াত শুরু। একবার হিরণকে না জানিয়েই সেখানে হাজির হওয়ায় দু'জনেই অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন। এমনকী, একাধিক নারীসঙ্গের অভ্যেস যে হিরণের বরাবরের, এহেন বিস্ফোরক দাবিও তুলেছেন তিনি।
এককথায়, চুপিসারে বিয়ে করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই সোশাল পাড়ার চর্চায় নেতা-অভিনেতার দ্বিতীয় দাম্পত্য ইনিংস। আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার ছাঁদনাতলায় বসায় বুধবার 'মাচো' স্বামীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করেছেন প্রথম স্ত্রী। যদিও বিজেপির তরফে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বৈবাহিক ডামাডোল নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনওরকম প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে বিরোধী দলের বিধায়কের এহেন কীর্তি যে ভোটের মুখে বড় ইস্যু হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
