'রামায়ণ' নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আইনি বিপাকে প্রকাশ রাজ। দক্ষিণী তারকার বিরুদ্ধে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিনেতার দাবি, 'রামায়ণ'-এর এক অন্য সংস্করণ অনুযায়ী রাম নাকি রাবণের বাগান থেকে ফল খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছিলেন। বিনিময়ে একটি টাকাও দেননি। আর প্রকাশের এহেন মন্তব্য দাবানল গতিতে ভাইরাল হতেই লঙ্কাকাণ্ড!
"রাবণ রাম-লক্ষ্মণকে বলেন- 'তোমরা এখানে এসেছিলে ফলের সন্ধানে, এখন যেহেতু ফল খেয়ে ফেলেছ, তাই ফলের বীজগুলো পুঁতে দাও, গাছ বড় করে এখান থেকে ফিরে যাও।'"
প্রকাশ রাজ বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন নিয়েও সিনেদুনিয়ায় চর্চার অন্ত নেই। একাধিকবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সমালোচনার শিকার হয়েছেন। এবার কিনা সেই অভিনেতাই হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগের কাঠগড়ায়! ঠিক কী ঘটেছে? জানা গিয়েছে, গত জানুয়ারি মাসে কেরল সাহিত্য উৎসবে যোগ দিয়ে জনৈক সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপচারিতাকালীন 'রামায়ণে'র এমন একটি সংস্করণের কথা তুলে ধরেন, যা কিনা ওই সাহিত্য উৎসবে শিশুদের একটি নাট্যদল মঞ্চস্থ করেছিল। সেই কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে প্রকাশ রাজ বলেন, "রাম-লক্ষ্মণ যখন ফল খাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই শূপর্ণখা এবং রাবণ সেখানে হঠাৎ উপস্থিত হন। ক্ষুব্ধ শূপর্ণখা বলেন, 'দাদা, ওরা আমাদের বাগানের ফল খাচ্ছে।' প্রত্যুত্তরে রাবণ বলেন, 'ওরা ক্ষুধার্ত। ওদের খেতে দাও। আমরা এবিষয়ে পরে কথা বলব।'" তবে এখানেই থামেননি দক্ষিণী অভিনেতা।
প্রকাশ রাজ। ছবি- সংগৃহীত
সমসাময়িক উদাহরণ দর্শিয়ে রসিকতাচ্ছলে প্রকাশ রাজের সংযোজন, “রাম তখন বলেন- 'আমরা রাবণের ক্ষেতের ফল খেয়েছি। তাই আমরা এর মূল্য পরিশোধ করব।' জবাবে শূপর্ণখা '২০০০ ডলার, সঙ্গে জিএসটি' যোগ করার কথা বলেন। রাম-লক্ষ্মণ জানান যে, তাঁদের কাছে কোনও টাকা নেই। এমনকী রাবণ কিছুটা ছাড় দেওয়ার পরেও তাঁরা মূল্য পরিশোধ করতে পারেননি। তখন রাবণ রাম-লক্ষ্মণকে বলেন- 'তোমরা এখানে এসেছিলে ফলের সন্ধানে, এখন যেহেতু ফল খেয়ে ফেলেছ, তাই ফলের বীজগুলো পুঁতে দাও, গাছ বড় করে এখান থেকে ফিরে যাও।'" জানুয়ারি মাসের এই মন্তব্যের ভিডিও নেটভুবনে ছড়িয়ে পড়তেই বেধড়ক কটাক্ষের শিকার প্রকাশ রাজ। খবর, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ দক্ষিণী অভিনেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে বিতর্কের সলতে এখানেই নেভেনি!
"উত্তর ভারতের মানুষদের উচিত দক্ষিণে আসা, কাজ করা এবং তারপর ফিরে যাওয়া। ওই 'এক জাতি, এক নির্বাচন'-এর বুলি যেন তাঁরা না আওড়ান!"
কারণ ওই সাক্ষাৎকারে প্রকাশ ভারতের উত্তর-দক্ষিণী বলয়ের বিভাজন নীতি নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন। অভিনেতা বলেছিলেন, "উত্তর ভারতের মানুষদের উচিত দক্ষিণে আসা, কাজ করা এবং তারপর ফিরে যাওয়া। ওই 'এক জাতি, এক নির্বাচন'-এর বুলি যেন তাঁরা না আওড়ান!" বলাই বাহুল্য, এহেন মন্তব্যে যে ফের মোদি সরকারকে খোঁচা দিয়েছেন তিনি। আর সেসব মিলিয়েইঈ আপাতত জোর আইনি জটিলতায় পড়েছেন প্রকাশ রায়। নেটভুবনেও মারাত্মক কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে তাঁকে। প্রকাশকে বিঁধে একাংশের মত, 'আমাদের দেব-দেবী এবং সনাতন ধর্মের প্রতি অবমাননা আর সহ্য করা হবে না। এই মানুষগুলোর এবার বোঝা উচিত যে- সবকিছুর একটা সীমা থাকে।'
