পার্ক স্ট্রিট্রের রেস্তরাঁয় বন্ধুদের নিয়ে নৈশভোজ সারতে গিয়ে অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। অভিযোগ, পাঁঠার মাংস অর্ডার দেওয়া সত্ত্বেও গরুর মাংসের স্টেক পরিবেশন করা হয়েছে তাঁদের। ঘটনার পরই পার্কস্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন টেলিপাড়ার সেলেব ইনফ্লুয়েন্সার। তার ভিত্তিতেই শনিবার গ্রেপ্তার করা হল গোমাংসের স্টেক পরিবেশন করা পাবের ওই বেয়ারাকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম শেখ নাসির উদ্দিন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় (কোনও শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত করা) মামলা রুজু করেছে। সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখেছে এই ধারায়। শুক্রবারের রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? শুক্রবার, শনিবার পর পর দুটি ফেসবুক লাইভে গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। যদিও অভিনেতার সেই দুই পোস্টের কোনও অস্তিত্ব আপাতত নেই। তবে খবর, এদিন সায়কের সঙ্গে পার্কস্ট্রিটের ওই রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন তাঁর দুই বন্ধু অনন্যা গুহ এবং সুকান্ত কুণ্ডু। খিদের পেটে মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন তাঁরা। এরপরই ঘটল গোলমাল! কীরকম? সায়কের কথায়, "ওয়েটার খাবার পরিবেশন করার পর প্রথমটায় খিদের পেটে না বুঝে খেয়ে ফেলেছিলাম। তবে উনি আরেকটা স্টেকের প্লেট এনে আমাদের টেবিলে রাখাতে আমরা বিষয়টা বুঝতে পারি। অনেকেই বলছেন, পুরো প্লেট শেষ করে আমরা প্রতিবাদ করেছি, ব্যাপারটা সেটা নয়। আমি এবং অনন্যা শুধু চেখে দেখছিলাম। এর মাঝেই উনি আমাদের টেবিলে মাটনের পদ রেখে যান। অথচ আমরা একটাই স্টেক অর্ডার করেছিলাম। তখনই ওই বেয়ারাকে জিজ্ঞেস করাতে উনি বলেন, আমরা নাকি ২টো স্টেকের পদ অর্ডার করেছি। একটা মাটন আরেকটা বিফ! সেসময়ে আমি প্রতিবাদ করি। অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ায় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম।"
লাইভে সায়ককে ওই ওয়েটারের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “আমি একজন ব্রাহ্মণ। আপনি আমাকে না জানিয়েই কী করে গরুর মাংস খাইয়ে দিলেন? গোমাতাকে খাইয়ে দিলেন!” এরপর ওই ওয়েটারকে ধর্ম জিজ্ঞেস করায় তিনি জানান যে, তিনি মুসলিম। সেই প্রেক্ষিতেই পালটা তাঁকে সায়ক প্রশ্ন ছোড়েন, “আমি আপনাকে না বলে শুয়োরের মাংস খাইয়ে দিলে আপনি খাবেন?” বচসা বাঁধতেই ওয়েটার একবাক্যে স্বীকার করে নেন যে তিনি ভুল করেছেন। এরপর পাবের অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও অভিযোগ জানান সায়ক। যদিও ওই বেয়ারা জানান, তিনি শুনতে ভুল করেছেন, তবে বিষয়টি নিয়ে রেস্তরাঁর মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয় রাতে। এরপরই থানায় এফআইআর দায়ের করেন অভিনেতা। যার ভিত্তিতে শনিবার ওই ওয়েটারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
