বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পরই শুরু নাটক। পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অন্যতম পরিচালক ইসতিয়াক সাদেক। বিশ্বকাপ থেকে ছাঁটাইয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিসিবি'র কর্তারা। সেখানে আচমকাই শাকিব আল হাসানকে দেশের হয়ে ফের ক্রিকেট খেলার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বিশ্বকাপ নিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই শাকিবকে সামনে আনা হচ্ছে।
বিশ্বকাপে না খেলা এবং নানা বিতর্কের মধ্যে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন উত্তাল। ক্রিকেটারদের সঙ্গে কর্তাব্যক্তিদের দূরত্ব বেড়েছে তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট। যেখানে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা চাইছে বিশ্বকাপে খেলতে, সেখানে বোর্ড প্রথম থেকেই 'গোয়ার্তুমি' বজায় রেখেছে। তার ফলে বিশ্বকাপ থেকে 'বিতাড়িত'। এবার কি বোর্ডের মধ্যেও অন্তর্কলহ? বিসিবি প্রভাবশালী পরিচালক ইসতিয়াক সাদেকের পদত্যাগে সেরকমই ইঙ্গিত মিলছে। যিনি কি না বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দল রংপুর রাইডার্সেরও কর্ণধার।
তবে আরেক পরিচালক আসিফ আকবর অবশ্য জানালেন, ব্যক্তিগত কারণে সাদেক সরে দাঁড়িয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে আসিফ বলেন, "ইসতিয়াকের বাবা বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। তিনি আপাতত পরিবার নিয়েই ব্যস্ত। বোর্ড মিটিংয়েও আসেন না। উনি যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তাতে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগই বলা হয়েছে।" তবে যেদিন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল, সেদিনই 'ব্যক্তিগত কারণে' পরিচালকের সরে যাওয়া কি নিছক কাকতালীয়?
ওই সম্মেলনেই আচমকা শাকিব আল হোসেনের প্রসঙ্গ তোলেন বিসিবি মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন। তাঁর বক্তব্য, শাকিব যদি ফিট থাকেন, তাহলে নির্বাচকরা বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ককে দলে নেওয়ার কথা বিবেচনা করে দেখবে। এমনকী শাকিব নাকি হোম ও অ্যাওয়ে, দুই ধরনের সিরিজে খেলতেই রাজি হয়েছেন। শাকিব এখন আমেরিকায় থাকেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরই আওয়ামি লিগের প্রাক্তন সাংসদ বাংলাদেশে ফেরেননি। ইচ্ছা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে 'শেষ' টেস্ট দেশের মাটিতে খেলা হয়নি। তাহলে হঠাৎ এমন কী পরিবর্তন হয়ে গেল যে শাকিব বাংলাদেশে খেলতে রাজি হয়ে গেলেন? অনেকে মনে করছেন বিশ্বকাপে না খেলার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই শাকিবকে 'তাস' হিসেবে খেলাচ্ছে বিসিবি।
