সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাজবলের অহংকারকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ১-৪ ব্যবধানে দুরমুশ হয়েছে ইংল্যান্ড। সিরিজে ইংরেজ ক্রিকেটারদের মদ্যপান বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছিল। তবে দলের ক্রিকেটারদের পাশেই রয়েছেন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম। সাফ জানিয়ে দিলেন তাঁর দলের অর্ধেকেই মদ্যপান করেন না।
ম্যাকালাম বলছেন, "সত্যি বলতে, আমাদের দলের অর্ধেকে মদ্যপান করেই না। ওরা হয়তো মাঝেসাঝে দু-একটা বিয়ার পান করে। জীবনের বহু ক্ষেত্রে মানুষ তো এটা করেই থাকে।" ক্রিকেটাররা যে একটুও বাড়াবাড়ি করেননি, সে কথা বুঝিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় টেস্টে হারের পর চারদিনের ছুটি নিয়েছিলেন ইংল্যান্ড ক্রিকেটাররা। এর পর যত নজর নুসার একটি রিসর্টে, তাঁরা কী করেছিলেন সেখানে? তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ইসিবি।
অনেকেই মনে করছেন, অ্যাশেজ হারেই সম্ভবত ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ জমানার সমাপ্তিতে সিলমোহর পড়ে গিয়েছে। কিংবদন্তি ইংরেজ ক্রিকেটার তো সরাসরি কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম এবং ক্যাপ্টেন বেন স্টোকসের অপসারণ চেয়েছেন। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে বিস্ফোরক রিপোর্ট। অ্যাশেজের ঠিক আগেই এক পানশালায় গিয়ে রীতিমতো বেসামাল হয়ে পড়েছিলেন ইংরেজ তারকা হ্যারি ব্রুক। তাঁকে মারতে বাধ্য হয়েছিলেন পানশালার নিরাপত্তারক্ষীরা। অ্যাশেজ হারের পর এই বিস্ফোরক ঘটনা ঘিরে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটমহল উত্তাল।
অ্যাশেজের ঠিক আগেই নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন ব্রুকরা। ওই ওয়ানডে সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তরুণ তুর্কি। কিন্তু ম্যাচের আগের দিন মত্ত অবস্থায় একটি নাইটক্লাবে ঢুকতে চান ব্রুক। তাঁকে আটকান নিরাপত্তারক্ষীরা। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে ব্রুককে আঘাত করে নিরাপত্তারক্ষীরা আটকানোর চেষ্টা করেন। তবে ব্রুকের খুব একটা আঘাত লাগেনি। এতকিছুর পরেও ব্রুকের নেতৃত্ব যায়নি। ৩০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিয়ে পার পেয়ে যান ইংল্যান্ড টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক। এই ঘটনারও তদন্ত করছে ইসিবি। জানা গিয়েছে, অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে সাদা বলের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব হারাতে পারেন ব্রুক।
অন্যদিকে, নিজের কোচিং পদ্ধতিতে অনড় ম্যাকালাম। বলছেন, "আমার পদ্ধতির উপর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে আমার। ক্রিকেটের বিবর্তন এবং অগ্রগতির পক্ষে আমি। সমস্ত খেলা, এমনকী জীবনের ক্ষেত্রেও আমার একই মতামত। এ ব্যাপারে সকলকে উৎসাহিত করি। এই পরিস্থিতিতে নিজের পদ্ধতির উপর আস্থা রাখতেই হবে। নাহলে কাজ করবেন কীভাবে?" এই কথায় কি মন গলবে ইসিবি'র? সময়ই এর উত্তর দেবে। তবে দলীয় সংস্কৃতি, নিয়মানুবর্তিতায় আমূল পরিবর্তন আনার পক্ষেও সওয়াল করেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটাররা।
