যুদ্ধ বন্ধ হবে না। তবে একই সঙ্গে চলবে খেলাও। ইরানের প্রশাসন যতই শত্রু হোক, সেদেশের ফুটবল দল যদি বিশ্বকাপে খেলতে যায়, তাহলে কোনওরকম সমস্যা হবে না। আমেরিকা তাঁদের স্বাগতই জানাবে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিকে জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হানায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে উত্তাল বিশ্বের একাধিক দেশ। আমেরিকার ভূমিকাতে ক্ষোভ জমছে বিশ্বের বহু দেশের। যার প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ক্রীড়াবিশ্বে। মনে করা হচ্ছে, আমেরিকার হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরান ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে। ১১ জুন থেকে শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ। সেই মেগা টুর্নামেন্ট আদৌ সময়মতো শুরু করা যাবে কিনা, বা শুরু হলেও গোটা দেশ অংশগ্রহণ করবে তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নেবে। এর আগে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেই বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল ফ্রান্স-জার্মানি। সঙ্গে আরও একধিক ইউরোপীয় দেশ হুমকি দিয়ে রেখেছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে বিশ্বকাপে যাবে না তাঁরা। ফলে একের পর এক বড় দেশ বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেওয়ায় টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আসরে নামতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ামক সংস্থা অংশগ্রহণকারী দলগুলিকে বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে আশ্বস্ত করতে চাইছে।
যুদ্ধের আবহে কী হবে বিশ্বকাপের? অংশগ্রহণকারী দেশগুলিকে কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না তো? এসব নিয়ে আশ্বাস পেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো। বৈঠক শেষে ফিফা প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরান-সহ সব দেশকেই বিশ্বকাপে স্বাগত জানাতে তৈরি আমেরিকা। ট্রাম্প তাঁকে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে আরও বেশি করে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা দরকার। আমরা চাই ইরানবাসীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বাড়ুক। ফলে সার্বিকভাবে বিশ্বকাপে কোনও সমস্যা হবে না।
