একাধিক রেকর্ড করে তৃতীয়বার বিশ্বজয় করেছে টিম ইন্ডিয়া। গোটা টুর্নামেন্টে একটা ম্যাচ বাদ দিলে সার্বিকভাবে চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলেছে ভারত। তবে টিম ইন্ডিয়ার জয়ে সবচেয়ে বেশি যাঁদের অবদান, তাঁদের মধ্যে অন্যতম নাম ঈশান কিষান। অথচ বিশ্বকাপের একমাস আগে পর্যন্ত ঈশান দলেই ছিলেন না। শেষবেলায় তাঁকে একপ্রকার জোর করেই দলে ফেরান নির্বাচকপ্রধান অজিত আগরককর। কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব নাকি শুভমান গিলকে দলে রাখার পক্ষে ছিলেন।
বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলে টিম ইন্ডিয়া। তার আগে পর্যন্ত টিম ইন্ডিয়ার সহ-অধিনায়ক ছিলেন শুভমান গিল। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, গম্ভীর এবং সূর্য নাকি শুভমান গিলকেই বিশ্বকাপের দলেও চাইছিলেন। কিন্তু নির্বাচক প্রধান আপত্তি করেন। তিনি সাফ বলে দেন, "আমার মত আপনাদের সঙ্গে মিলছে না। ও খুব ভালো ক্রিকেটার। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটে আরও প্রচুর বিকল্প আছে। তাই ওকে বাদ পড়তে হবে।" সূত্রের দাবি, আগরকরই গিল এবং জিতেশ শর্মার বদলে ঈশান কিষান এবং রিঙ্কু সিংকে নিতে চেয়েছিলেন। কোচ এবং অধিনায়ক শেষ মুহূর্তে দলে বদল আনতে রাজি ছিলেন না। সেই আপত্তি উড়িয়েও নিজের সিদ্ধান্ত অনড় থাকেন আগরকর। তাঁর বাছাই করা ঈশান কিষানই শেষে বিশ্বজয়ের নায়ক হয়ে গেলেন।
আসলে ভারতের মতো ক্রিকেট পাগল দেশে নির্বাচকপ্রধান হওয়াটা মোটে সহজ কাজ নয়। এ দেশে প্রত্যেক ক্রিকেটপ্রেমীর নিজস্ব মতামত রয়েছে, প্রত্যেকেই যেন বিশেষজ্ঞ, সবজান্তা। ফলে যাকেই দলে নেওয়া হোক, বহু মানুষের তাতে আপত্তি থাকবেই। তাছাড়া দল নির্বাচন বড় স্বীকৃতিহীন কাজ। ভালো দল নির্বাচন করলে মনে করা হয় সেটাই প্রত্যাশিত। আর কোনও সিদ্ধান্ত ভুল হলেই মুন্ডপাত। রবিবারের পর বলা বাহুল্য, এই কঠিন কাজটি খুব ভালোভাবে করেছেন অজিত আগরকর।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচক হন তিনি। খানিক বিরূপ পরিস্থিতিতেই। চেতন শর্মাকে বিতর্কিত কারণে সরানোর পরা আগরকরকে আনা হয়। তাঁর প্রথম বড় দায়িত্ব ছিল ২০২৩ বিশ্বকাপের দল বাছা। এরপর তিনি সব মিলিয়ে মোট চারটি আইসিসি ট্রফির দল বেছেছেন। এর মধ্যে ২০২৪ ও ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত চ্যাম্পিয়ন। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চ্যাম্পিয়নও ভারত। আবার গোটা দুই এশিয়া কাপও জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। একটা মাত্র আইসিসি ট্রফিতে ভারত ‘ব্যর্থ’ হয়েছে। সেটা ২০২৩। সেবারও টিম ইন্ডিয়া রানার্স আপ। অর্থাৎ নিজের সময়কালে চারটি আইসিসি ট্রফির ৩টিই দলকে জিতেছেন আগরকর। অপরটিতে টিম ইন্ডিয়া রানার্স আপ। আর কোনও নির্বাচক অন্তত খাতায় কলমে এতটা সফল নন।
