একজন বাংলার হয়ে রনজি জিতেছেন। আর একজন বাংলার হয়ে পঁচিশটা রনজি ট্রফি ম্যাচ খেলেছেন। দত্তাত্রেয় মুখোপাধ্যায় আর অজয় বর্মা। দু'জনকেই বাংলার ভিশনের কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি দু'জনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলা ক্রিকেটে এখন থেকে আর তাঁদের 'সার্ভিস' লাগবে না। সিএবিতে ডেকে তাঁদের সঙ্গে আলোচনার সৌজন্য ছেড়েই দিন, একটা ফোন পর্যন্ত করা হয়নি! একটা ই-মেল গিয়েছে, ব্যস! এখানেই শেষ নয়। বাংলার হয়ে আর এক রনজি খেলা ক্রিকেটার রাকেশ কৃষ্ণনের ক্ষেত্রেও একই জিনিস হয়েছে। রাকেশ আবার ট্যালন্ট হান্ট কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁকেও বাদ দেওয়া হয়েছে একইভাবে। যার পর থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে, বাংলার ক্রিকেটে যাঁদের অবদান, তাঁদের স্রেফ একটা মেলেই ব্রাত্য করে দিল সিএবি!
আরও একটা নাম বলাই হয়নি। অশোক মলহোত্রা। যিনি ট্যালেন্ট হান্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁকেও একইভাবে ব্রাত্য করে দেওয়া হয়েছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সিএবি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর আগের ট্যালেন্ট হান্ট কমিটির বদলে নতুন এক কমিটি হয়েছে। মেম্বার্স কোচিং অ্যান্ড স্কাউটিং। যেখানে রয়েছেন শরদিন্দু মুখোপাধ্যায়, ইন্দুভূষণ রায়। এবং তাঁদের সঙ্গে আবদুল মুনায়েম। এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে। ময়দানে বলাবলি চলছে, মুনায়েমের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলার কোনও অভিজ্ঞতাই নেই। শুধু ময়দানে কোচিং করেছেন। তাঁকে বাংলার স্কাউট করা আদৌ যুক্তিযুক্ত তো? কেউ কেউ এটাও প্রশ্ন তুলছেন, বাংলায় কি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলা প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অভাব পড়েছে? না হলে আবদুলের মতো শুধু ক্লাব ক্রিকেটে কোচিং করা একজনকে কেন দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হচ্ছে? আরও বলা হচ্ছে, গতবার মুনায়েম ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু সেখানে পুরো মরশুম কোচিং করতে পারেননি। শেষ দিকে আর তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। ময়দানের একাংশের মতে, আবদুলের কোচিংয়ে একদমই খুশি ছিল না লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট। বেশ কিছু সিনিয়র ক্রিকেটারও নাকি তাঁর কোচিংয়ে খেলতে চান না। অথচ সিএবি তাঁকেই দায়িত্বে নিয়ে এসেছে। ময়দানে অনেকে এর মধ্যে আবার 'পাইয়ে' দেওয়ার রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন।
অবশ্য শুধু আবদুল একা নন। প্রাক্তন ক্রিকেটার শরদিন্দুকে নিয়েও হাজারো একটা অভিযোগ। মেম্বার্স কোচিং কমিটির সঙ্গে তাঁকে আবার বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়ে আসা হয়েছে ভিশন প্রোজেক্টেও। সিএবির নিয়মে স্পষ্ট করে বলা আছে, যাঁরা অ্যাসোসিয়েশনের কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত তাঁরা অন্য কোথাও কোনও কিছুর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। সেখানে শরদিন্দু সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে কোচিং করাচ্ছেন! ধারাভাষ্য দিতে চলে যাচ্ছেন! নিজের অনুপস্থিতিতে কোচিং করতে বলে দিচ্ছেন অন্য লোককে! যা নিয়ে সিএবি-তেই ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। কোনও কোনও কর্তা বলছিলেন, "নিয়ম সবার ক্ষেত্রে এক হওয়ার দরকার। এক-একজনের জন্য এক-একরকম কেন হবে? নিয়মে স্বচ্ছতা থাকা দরকার।"
