রাজকোটের উইকেট সচরাচর ব্যাটিং উইকেট বলেই পরিচিত। একেবারে পাটা উইকেট বলতে যা বোঝায়, এখানকার উইকেট তেমনই। কিন্তু বুধবার দেখা গেল অন্য ছবি। ব্যাটারদের 'স্বর্গ' এই পিচ অদ্ভুত আচরণ করল। সেখানে বল উঁচু-নিচু তো হলই, একই সঙ্গে ব্যাটে পৌঁছতেও কিছুটা সময় নিল। এমন পিচে ব্যর্থ হলেন রো-কো। তবে বিরাট-রোহিতের ব্যর্থতার দিনে উজ্জ্বল কেএল রাহুল। তাঁর সেঞ্চুরিতে ভর করে নিউজিল্যান্ডের সামনে ২৮৫ রানের লক্ষ্য রাখল টিম ইন্ডিয়া।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে টস জিতলেও এদিন পুরনো 'মুদ্রাদোষে' টসে হেরে গেলেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। আহত ওয়াশিংটন সুন্দরের জায়গায় খেলছেন নীতীশ রেড্ডি। অর্থাৎ অভিষেক হল না আয়ুষ বাদোনির। অন্যদিকে এই ম্যাচেও ‘বঞ্চিত’ রইলেন অর্শদীপ সিং।
শুরুটা বেশ কিছুটা সাবধানী হয়ে করেন দুই ভারতীয় ওপেনার শুভমান গিল এবং রোহিত শর্মা। প্রথম ওভারেই মেডেন নিয়ে গেলেন কাইল জেমিসন। ধীরে ধীরে হাত খুললেন তাঁরা। তবে রোহিতের থেকে অনেক বেশি সপ্রতিভ ছিলেন গিল। উইকেটের গতিবিধি বুঝে দু'জন ওভার পিছু ৬ করে রান তুলছিলেন। আচমকাই ছন্দপতন। ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ককে তুলে মারতে গিয়ে ব্যক্তিগত ২৪ রানের মাথায় কার্যত নিজের উইকেট ছুড়ে দিলেন হিটম্যান। প্রথম ম্যাচেও একইভাবে আউট হয়েছিলেন।
রোহিত না পারলেও হাফসেঞ্চুরি করলেন গিল। ৪৬ বলে ৫০ করেন ভারত অধিনায়ক। যদিও ইনিংসকে বড় রানে রূপান্তর করতে পারলেন না। ৫৬ রানে তাঁকে ফেরালেন জেমিসন। সাততাড়াড়ি ফেরেন শ্রেয়স আইয়ারও (৯)। সেট হয়ে ২৩ রানে সাজঘরে ফেরেন বিরাট কোহলি। ক্লার্কের বলের বাউন্স বুঝতে পারলেন না তিনি। বল তাঁর ব্যাটে লেগে উইকেট ভেঙে যায়। ভারত সেই সময় ৪ উইকেটে ১১৮ কিছুটা হলেও চাপে। সেখান থেকে ভারতকে টেনে তোলেন কেএল রাহুল।
প্রথমে রবীন্দ্র জাডেজাকে সঙ্গে নিয়ে ৭৩ রানের জুটি গড়েন রাহুল। ব্রেসওয়েলের বাউন্স বুঝতে না পেরে তাঁর হাতেই ২৭ রানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাড্ডু। এরপর নীতীশ রেড্ডিকে নিয়ে ৫৭ রানের জুটি গড়েন রাহুল। ব্যক্তিগত ২০ রানে ফোকসের বলে ফিলিপসের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরলেন ভারতীয় অলরাউন্ডার। তবে কোনওভাবেই কিন্তু টলানো যায়নি রাহুলকে। চাপের মুখে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি হাঁকালেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯২ বলে ১১২ রানে অপরাজিত থাকলেন। ৭ উইকেট হারিয়ে ভারত করল ২৮৪ রান।
