প্রত্যেকটা ম্যাচই মরণবাঁচন। প্রত্যেক ম্যাচে না জিতলে অধরা থেকে যাবে প্লে অফ। কেকেআরের সামনে অঙ্কটা খুবই স্পষ্ট। কিন্তু সেই মরণবাঁচন ম্যাচেও মন্থর ব্যাটিং করে গেলেন অজিঙ্ক রাহানেরা। হাতে উইকেট জমিয়ে রেখেও সেটার ফায়দা তুলতে পারল না কেকেআর ব্যাটিং লাইন আপ। ফলস্বরূপ দুশো রানের 'বেঞ্চমার্ক' পেরতে পারল না কেকেআর। এই রানের পুঁজি নিয়ে বিরাট কোহলিদের আদৌ রুখে দেওয়া যাবে? উঠছে প্রশ্ন।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে কেকেআর। মারকুটে মেজাজে শুরু করেছিলেন ফিন অ্যালেন। মাত্র ৮ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান। কিন্তু উলটোদিকে নাইট অধিনায়ক রাহানের সেই পরিচিত ব্যাটিং। টেস্ট ম্যাচের ঢঙে এদিন দেখা গেল রাহানেকে। অনেকটা সময় তাঁর রানের সংখ্যা বলের থেকে কম ছিল। শেষ পর্যন্ত নাইট শিবিরে খানিকটা আশীর্বাদের মতোই আউট হয়ে গেলে তিনি। ১৩ বলে রাহানের সংগ্রহ ১৯ রান। কোন যুক্তিতে সুনীল নারিনের মতো পিঞ্চ হিটারকে দিনের পর দিন ওপেনিং থেকে ব্রাত্য করে রাখা হয়, জানা নেই।
অধিনায়কের দেখানো পথেই এদিন হাঁটলেন ক্যামেরন গ্রিন। একটা সময়ে পাঁচ বল খেলে মাত্র দুটি রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন অজি তারকা। শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে ৩২ রান করে আউট হয়ে গেলেন। সেখান থেকেই নাইট ব্যাটিং লাইন আপে যেন জুজু ঢুকে গেল। বড় শট সেভাবে খেলতেই পারলেন না নাইট ব্যাটাররা। অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ৭১ রানের ইনিংস খেললেন। কিন্তু উলটো দিকে রিঙ্কু সিং সেভাবে ঝড় তুলতে পারলেন না। ৭৬ রানের পার্টনারশিপ গড়লেন দু'জনে, উইকেটও বাঁচালেন, কিন্তু টি-২০ ক্রিকেটের গতিতে রান আর উঠল না।
স্কোরবোর্ড বলছে, শেষ পাঁচ ওভারে কেকেআর তুলেছে ৫১ রান। অথচ এই পর্যায়ে ৭০-৮০ রান আকছার উঠছে বর্তমানের টি-২০তে। হাতে উইকেট থাকা সত্ত্বেও কেন রিঙ্কু-অঙ্গকৃশরা আরেকটু ঝুঁকি নিলেন না? একজন উইকেট কামড়ে পড়ে থাকলেও অন্যজনের আগ্রাসী ব্যাটিং করে রানের গতি বাড়ানো উচিত ছিল। ২৯ বলে ৪৯ রানের ইনিংস রিঙ্কুর ব্যাট থেকে এল। কিন্তু সেটা কি আদৌ যথেষ্ট? ১৯২ রান তুলল কেকেআর। দুরন্ত ফর্মে থাকা আরসিবিকে কি এই রানের মধ্যে বেঁধে ফেল সম্ভব? হাজারো প্রশ্ন নাইটভক্তদের মনে।
