ম্যাচ আসে, ম্যাচ যায়। কেকেআরের পরিস্থিতি বদল হয় না। হারের পর হারই জুটতে থাকে বরাতে। পাঁচ ম্যাচে জয়ের দেখা মেলেনি এখনও। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে একটা পয়েন্ট এসেছে। তবে সে ম্যাচে শুরুটা যেভাবে হয়েছিল, বৃষ্টি না নামলে হয়তো হারের কলামে চারের পরিবর্তে পাঁচ লেখা থাকত।
কাঙ্খিত সেই জয়ের খোঁজে শুক্রবার আহমেদাবাদে নামতে চলেছে কেকেআর (KKR)। প্রতিপক্ষ গুজরাট টাইটান্স (GT)। অজিঙ্ক রাহানেদের মতো তারাও নিজেদের প্রথম দু'টো ম্যাচ হেরেছে। কিন্তু তারপর দু'দল এগিয়েছে দুই ভিন্ন পথে। পরপর ম্যাচ জিতে লিগ টেবলে অনেকটা ভালো জায়গায় পৌঁছে গিয়েছেন শুভমান গিলরা। কেকেআরের বিরুদ্ধে জিততে পারলে ঢুকে পড়বে প্রথম চারের এলিট-গণ্ডির মধ্যেও। শুভমান, সাই সুদর্শন, জস বাটলাররা ব্যাট হাতে রানের মধ্যে রয়েছেন। সিরাজ-কৃষ্ণ-অশোক-রাবাডায় সাজানো পেস অ্যাটাক এবারের আইপিএলে অন্যতম সেরা। সঙ্গে ওয়াশিংটন সুন্দর বা রশিদ খানের মতো নাম, যাঁরা স্পিনের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ঝড় তুলতে পারেন। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে 'প্রথম জয়' নামক জিয়নকাঠির খোঁজে কেকেআর। যাদের কোনও বিভাগই এখনও পর্যন্ত বলার মতো কিছু করতে পারেনি। না ব্যাটিং, না বোলিং।
আইপিএল শুরুর আগেই নাইটদের পেস অ্যাটাক নিয়ে প্রশ্ন ছিল। মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে হয়েছে মাঠের বাইরের সমস্যার জন্য। হর্ষিত রানা আর আকাশ দীপ চোটের জন্য বাইরে। মাথিশা পাথিরানা দীর্ঘ টালবাহানার পর 'এনওসি' পেয়েছেন শ্রীলঙ্কা বোর্ডের। তবে তিনি কবে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন কেউ জানে না। কেকেআর টিমের এক সদস্য বলছিলেন, "পাথিরানার এনওসি আমাদের কাছে চলে এসেছে। আপাতত ওকে ভারতে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে শুক্রবারের ম্যাচে ও নেই।" অর্থাৎ শুভমান-বাটলারদের বিরুদ্ধে সেই বৈভব অরোরা, কার্তিক ত্যাগীদের উপরই ভরসা রাখা ছাড়া পথ নেই। কার্তিক অবশ্য এদিন শুনিয়ে গেলেন, "কিছু ম্যাচে ভাগ্য সহায় হয়নি। আমরা জয়ের খুব কাছে গিয়েও শূন্য হাতে ফিরেছি। একটাও ম্যাচ জিততে পারিনি এখনও, সেটা গোটা দলের কাছে হতাশার। তবে সবাই চেষ্টা করছে ভালো কিছু করার।"
কিছু ম্যাচে ভাগ্য সহায় হয়নি। আমরা জয়ের খুব কাছে গিয়েও শূন্য হাতে ফিরেছি। একটাও ম্যাচ জিততে পারিনি এখনও, সেটা গোটা দলের কাছে হতাশার। তবে সবাই চেষ্টা করছে ভালো কিছু করার।
শুক্রবার আহমেদাবাদে প্রথম একাদশে বদলের পথে হাঁটতে পারে কেকেআর। যা খবর, ফিন অ্যালেনের পরিবর্তে দলে আসতে পারেন টিম সেইফার্ট। পাঁচটা ম্যাচে সুযোগ পেয়েও বলার মতো কিছু করতে পারেননি অ্যালেন। তাই জাতীয় দলে তাঁর ওপেনিং পার্টনারকে এবার সুযোগ দেওয়ার কথা ভেসে আসছে ইতিউতি। তাছাড়া শেষ যে ম্যাচটা সেইফার্ট খেলেছিলেন আমেদাবাদে, সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ২৬ বলে ৫২ রানের দুরন্ত একটা ইনিংস রয়েছে তাঁর। সেসব কথা মাথায় রেখে দলে আনা হতে পারে তাঁকে। শেষ ম্যাচে সিএসকে-র বিরুদ্ধে সুনীল নারিনকে হঠাৎ ওপেনিংয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে শুক্রবার অধিনায়ক রাহানের ওপেনিংয়ে ফেরার সম্ভাবনাই বেশি।
পাশাপাশি বরুণ চক্রবর্তীর ফর্মও মাথাব্যথা বাড়াচ্ছে নাইটদের। শেষ ম্যাচে চিপকে পুরো চার ওভার করানো যায়নি বরুণকে দিয়ে, যা কিনা তাঁর ঘরের মাঠ। সতীর্থরা অবশ্য দাঁড়াচ্ছেন বরুণের পাশেই। কার্তিক বলছিলেন, "প্রত্যেক প্লেয়ারের কেরিয়ারে কঠিন সময় আসে। তবে সেই সময়টা কাটিয়ে উঠতে পারলে আরও ভালো প্লেয়ার হয়ে ওঠা যায়। সেই সময়টাই হয়তো এখন বরুণ ভাই পার করছে।" কবে বরুণের সেই 'যাত্রা' শেষ হয়, তারই অপেক্ষায় নাইট ম্যানেজমেন্ট।
আজ আইপিএলে
গুজরাত টাইটান্স বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স
সন্ধ্যা ৭.৩০, আহমেদাবাদ
স্টার স্পোর্টস
