প্র্যাকটিসের পর রাজস্থান রয়্যালস ক্রিকেটাররা একে একে ইডেন থেকে বেরোচ্ছেন। কিন্তু বছর পনেরোর ছেলেটা কোথায়? কিছুক্ষণ আগেই নেটে ধুন্ধুমার ব্যাট করেছেন যিনি। সন্দীপ শর্মা, ধ্রুব জুরেলরা বেরিয়ে গেলেন। বৈভব সূর্যবংশীকে (Vaibhav Sooryavanshi) কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না। পরে জানা গেল, গাড়িতে আলাদা বেরিয়েছেন তিনি।
রাহুল দ্রাবিড় রাজস্থানের কোচ থাকার সময় একটা নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন। বৈভবকে যাতে কখনও একা না ছাড়া হয়। অর্থাৎ টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ কেউ না সর্বদা বৈভবের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকবেন। দ্রাবিড়ের বক্তব্য ছিল, বৈভবকে মিডিয়া, প্রচারের আলো থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে। যাতে তার উপর বাইরের কোনও চাপ না পড়ে। দ্রাবিড় এখন আর রাজস্থানের কোচ নেই। কিন্তু আগের কোচের সেই নির্দেশ এখনও মেনে যাচ্ছে রাজস্থান। বৈভবের সময় টিমের কেউ কেউ সময় থাকে। এদিনের বৈভবকে সঙ্গে নিয়ে টিম ম্যানজমেন্টের একজন গাড়িতে নিয়ে আগেই ইডেন ছাড়লেন।
ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন সেনেসেশনকে যতটা সম্ভব প্রচারের আলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে বার্তা দিয়ে দেওয়া হয়েছে, বেশি কিছু ভাবার দরকার নেই। বরং খোলা মনে নিজের খেলা উপভোগ করো। রাজস্থান শিবিরে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, বৈভবও সেটা মেনে চলেছে। সর্বদা হাসিখুশি থাকছে। আইপিএলের শুরুটা দুর্ধর্ষ হয়েছে। যদিও আগের ম্যাচে প্রথম বলে আউট হয়েছেন। অনেকে বলছেন, প্রথম বল থেকেই হিট করার কী আছে তাঁর? কিন্তু বৈভবকে যে বাকিদের মতো নয়। সে আলাদা। নেটে ঢুকে এদিন প্রথম শটটাই মারল কভারের উপর দিয়ে। রাজস্থান রয়্যালসের কেউ কেউ বলছিলেন, "মাত্র পনেরো বছর বয়সে কেউ যদি এরকম ব্যাটিং করে, তাহলে তাকে জিনিয়াস বলতে হয়। বেশি কিছু একেবারেই ভাবে না বৈভব। ওর গেমপ্ল্যান খুব পরিষ্কার। মাঠে যাও আর ভয়ডরহীন ব্যাটিং করো।"
রবিবার ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ। তার তিন দিন আগে শহরে চলে এসেছে রাজস্থান। এদিন দুপুরে ইডেনে প্রায় ঘণ্টা তিনেক ট্রেনিং চলল। বৈভব অবশ্য ব্যাট করতে ঢুকলেন একটু পরের দিকে। আইপিএলের শুরুটা দুর্দান্ত করেছে রাজস্থান। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে জয় চারটেতে। লিগ টেবিলে দুই নম্বরে রয়েছে তারা।
