গত মরশুমে মাত্র দু’টি ম্যাচ খেলে আইপিএল ছেড়ে হঠাৎই দেশে ফিরে গিয়েছিলেন কাগিসো রাবাডা (Kagiso Rabada)। পরে জানা যায়, ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসায় সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন প্রোটিয়া পেসার। এই মর্মে নিজেই ভুলও স্বীকার করে নিয়েছিলেন। সেই রাবাদাকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল। সেখানে গুজরাট টাইটান্সের এই পেসারকে সিগারেটে সুখটান দিতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যদিও এই ভিডিওর সত্যতা এখনও যাচাই করেনি 'সংবাদ প্রতিদিন' ডিজিটাল'। ফুটেজে দেখা যায়, এক জায়গায় বসে ধূমপানে মত্ত রাবাডা। অনেকেই আবার বলছেন, যে জায়গায় রাবাদাকে ধূমপান করতে দেখা যায়, তা সম্ভবত টিম হোটেলের ভেতরে। তাঁর সঙ্গে গুজরাট টাইটান্সের বেশ কয়েকজন কর্মীও ছিলেন। তবে তাঁদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। উপর বারান্দা থেকে রেকর্ড করা ওই ভিডিও লক্ষ লক্ষ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
গত বছর রাবাদা নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি বিনোদনমূলক ড্রাগ সেবন করেছিলেন। কোনও ক্রীড়াবিদেরই এই ওষুধ গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপর এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন রাবাডা। প্রোটিয়া তারকা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কখনওই ক্রিকেটকে হালকাভাবে নেবেন না। তিনি বলেন, "খবর হয়েছিল ব্যক্তিগত কারণে আমি আইপিএল ছেড়ে দেশে ফিরে গিয়েছি। আসলে বিনোদনমূলক ড্রাগ নেওয়ার কারণে আমি সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা ভোগ করছি। এর জন্য প্রচণ্ড হতাশ। আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে ক্রিকেটকে এমন হালকাভাবে নেব না। ক্রিকেটকে ভালোবাসি। তাই ফিরে আসার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।"
এমনকী দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডও একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ডোপিং-বিরোধী প্রোটোকল লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন রাবাডা। এরপর একমাসের জন্য তাঁকে নিষিদ্ধও করা হয়। এই মরশুমে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে ছন্দে রয়েছেন প্রোটিয়া পেসার। ছয় ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে তিনি বর্তমানে বেগুনি টুপির তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছেন। ডানহাতি এই পেসারের গড় ২২.২০। ইকোনমি রেট ৯.৭৩। তবে রাবাডার ধূমপানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ভক্তরা জানতে চান, এর জন্য কি বিসিসিআই চলতি আইপিএল থেকে তাঁকে নিষিদ্ধ করতে পারে? জানিয়ে রাখা যাক, ধূমপান-বিরোধী কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই আইপিএলে। যা কোনওভাবেই অবৈধ নয়। অনেকেই বলছেন, ভারতীয় বোর্ডের ডোপিং-বিরোধী বিভাগ বড়জোর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, রাবাডা কী ধরনের পদার্থ গ্রহণ করছিলেন। তবে রাবাদা যদি বেশ নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবন করে থাকেন, তাহলে গুরুতর শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন।
