সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এই মুহূর্তে ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত নাম সম্ভবত মুস্তাফিজুর রহমান (Mustafizur Rahman)। রেকর্ড ৯.২ কোটি টাকায় বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পেসারকে দলে নিয়েছিল নাইটরা। যদিও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল খেলা হবে না তাঁর। এর পরেই সুর চড়া করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জানিয়ে দেয়, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না তারা। এত ডামাডোল যাঁকে নিয়ে, সেই মুস্তাফিজুর কিন্তু দুরন্ত ফর্মে। দু’দিন আগেই দ্রুততম পেসার হিসাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ উইকেট নেওয়ার নজির গড়েছিলেন। আর এবার প্রায় হারা ম্যাচে দলকে জেতালেন। যদিও ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেলেন না বাংলাদেশের কাটার মাস্টার।
প্রথমে ব্যাটিং করে মুস্তাফিজুরের রংপুর রাইডার্স তোলে ১৫৫ রান। জবাবে ভালোই এগোচ্ছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। ১৯ ওভার পর্যন্ত তাদের জয় কার্যত নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। শেষ ওভারে ঢাকার জেতার জন্য দরকার ছিল ১০ রান। হাতে ৬ উইকেট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যা জলভাত। যদিও মুস্তাফিজুরের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনেই হার মানে ঢাকা। চূড়ান্ত ওভারে মাথা ঠান্ডা রেখে যেভাবে রংপুরকে জয় এনে দিলেন, তা তারিফযোগ্য।
২০তম ওভার শুরুর আগের ঢাকার রান ছিল ৪ উইকেটে ১৪৬। মুস্তাফিজুর দিলেন মাত্র ৪ রান। চারটেই সিঙ্গেল। উইকেটে থাকা সাব্বির রহমান, মহম্মদ মিঠুনরা পড়তেই পারলেন না ফিজকে। মজার ব্যাপার হল, প্রথম দুই ওভারে ১৭ রান দিয়েছিলেন তিনি। আর ম্যাচের শেষে তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ৪-০-২৩-১। অর্থাৎ শেষ দুই ওভারে দিলেন মাত্র ৬ রান। ১৮তম ওভারে ২, শেষ ওভারে ৪। তবে এমন অবিশ্বাস্য বোলিংয়ের পর ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হননি মুস্তাফিজ।
ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৮ বলে ৫১ রানের ঝকঝকে ইনিংসের সৌজন্যেই দেড়শোর গণ্ডি পার করে রংপুর। সেই কারণেই তাঁকেই দেওয়া হয় এই পুরস্কার। উল্লেখ্য, রুদ্ধশ্বাস এই জয়ের ফলে মুস্তাফিজুরের দল চার ম্যাচে তৃতীয় জয় পেয়ে দু'নম্বরে উঠে এসেছে। ঢাকা নেমে গিয়েছে পাঁচে। উল্লেখ্য, ইউনুস সরকারের চাপে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড। রবিবার দুপুরে ১৭ জন বোর্ড পরিচালককে নিয়ে বিসিবি’র সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের ম্যাচ অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার আর্জি জানিয়ে আইসিসি’কে চিঠিও দিয়েছে বিসিবি। এখন আইসিসি'র উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড।
