সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দর পেয়েও আইপিএল খেলা হচ্ছে না। তাঁকে মেগা টুর্নামেন্টে খেলার অনুমতি দেয়নি বিসিসিআই। অগত্যা এবার দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলের চেয়ে অনেক সস্তায় তিনি খেলবেন পাকিস্তানের লিগ পিএসএলে। আসলে পিএসএলের কোনও দলের মোট বাজেটও মুস্তাফিজুরের ওই আইপিএলের বেতনের সমতুল্য নয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন মুস্তাফিজুর। রংপুরের হয়ে খেলার সময়েই মুস্তাফিজুর জানতে পেরেছেন যে এবারের আইপিএলে খেলতে পারবেন না। শোনা যাচ্ছে, তারপরই পিএসএলে খেলার ব্যাপারে মনস্থির করেন তিনি। জানা গিয়েছে, আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পরই পিএসএলে নাম লেখানোর জন্য আবেদন করেন তিনি। বলা বাহুল্য, পাকিস্তানের ওই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ফিজকে লুফে নিয়েছে। পিএসএলের সরকারি সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বাংলাদেশি 'কাটার মাস্টার'কে স্বাগত জানিয়েছে তারা। তবে তাঁর দল এখনও ঠিক হয়নি। সেটা ড্রাফটে ঠিক হবে। এ যাবৎকাল পিএসএলে সবচেয়ে বেশি দাম পেয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার। ভারতীয় মুদ্রায় সেটা ২.৭ কোটি। ধরে নেওয়া যায় মুস্তাফিজ দল পেলেও কোনও মতেই তাঁর দর কোটি টাকার উপরে উঠবে না।
আইপিএলের মতো পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পিএসএল শুরু হবে আগামী বছরের ২৬ মার্চ। আগামী ৩ মে শেষ হবে এই পিএসএল। মুস্তাফিজ এর আগে পিএসএল খেলেছেন একবার, সেটি ২০১৮ সালে। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ৫ ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। ৭ বছর পর আবার সেখানে খেলতে যাচ্ছেন পিএসএলে। আসলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তিক্ততা যত বাড়ছে ততই পাকিস্তানের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ছে ওপার বাংলার। ইউনুস প্রশাসন ঘোষিত ভাবেই পাকিস্তানকে কার্যত বাংলাদেশের 'ভাইজান' বানিয়ে ফেলেছে। সেকারণে মুস্তাফিজের পিএসএল যাত্রা অবাক করার মতো বিষয় নয়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানান, “সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিসিসিআই থেকে কেকেআরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের বাংলাদেশি প্লেয়ার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে হবে। তবে বিসিসিআই এটাও তাদের বলেছে যদি তারা কোনও বিকল্প প্লেয়ার চায়, তাহলে সেক্ষেত্রে বোর্ড সেটার অনুমতি দেবে।” এই ঘোষণার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে শুরু হয় ব্যাপক টানাপোড়েন।
